দেশের প্রাথমিক শিক্ষা খাতে অস্থিরতা চরমে পৌঁছেছে। গত চার বছরে চারবার পাঠ্যক্রম ও মূল্যায়ন পদ্ধতি পরিবর্তনের ফলে দেশের প্রায় ২ কোটি কোমলমতি শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং বারবার নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ফলে শিক্ষার্থীরা যেমন পড়াশোনায় আগ্রহ হারাচ্ছে, তেমনি চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন অভিভাবক ও শিক্ষকরা।
২০১২ সালে প্রবর্তিত ‘সৃজনশীল পদ্ধতি’র পর ২০২১ সালে নতুন শিক্ষাক্রম আনা হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়ে দ্রুততম সময়ে সেই বিতর্কিত শিক্ষাক্রম বাতিল করে পুরনো পদ্ধতিতে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে ২০২৫ ও ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য পুনরায় নতুন মূল্যায়ন নির্দেশিকা ও ২০২৭ সালে বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা শিক্ষাখাতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে।
শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও ঝরে পড়ার ঝুঁকি: ঘনঘন পদ্ধতিতে পরিবর্তনের ফলে শিক্ষার্থীরা বুঝে উঠতে পারছে না তাদের ঠিক কীভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। অনেক শিক্ষার্থী মানসিক চাপে (Mental Pressure) ভুগছে এবং বিষণ্নতায় আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষ করে বছরের শেষ সময়ে এসে ২০২৬ সালের জন্য নতুন মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষা যুক্ত করার প্রস্তাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষাবিদরা। তাদের মতে, পর্যাপ্ত শিক্ষক প্রশিক্ষণ ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত হঠকারী এবং এর ফলে প্রাথমিক স্তরে ঝরে পড়ার হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যেতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআর (IER) বিভাগের অধ্যাপকদের মতে, বারবার পরিবর্তনের ফলে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় হচ্ছে এবং শিক্ষক-অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ দানা বাঁধছে। এই সংকট নিরসনে একটি স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠন এবং লক্ষ্যনির্ভর শিক্ষাক্রম প্রণয়নের তাগিদ দিয়েছেন তারা।










