মোবাইলে কথা বলছেন, হুট করেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন। কিংবা অপর প্রান্তের কথা শোনা যাচ্ছে না—এমন বিড়ম্বনায় পড়েননি এমন মোবাইল ব্যবহারকারী খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। কল ড্রপের এই সমস্যা নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগের শেষ নেই। টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি কল ড্রপের জন্য অপারেটরদের জরিমানার বিধান রাখলেও, গ্রাহক পর্যায়ে কিছু সচেতনতা এই ভোগান্তি কমাতে পারে।
কেন কল ড্রপ হয় এবং এর সমাধান কী, তা নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন:
কল ড্রপ কেন হয়?
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, কল ড্রপের পেছনে প্রধানত তিনটি কারণ থাকে:
- ১. নেটওয়ার্ক কাভারেজ: আপনার অবস্থান যদি টাওয়ার থেকে দূরে হয় বা বেজমেন্টে থাকেন।
- ২. নেটওয়ার্ক কনজেশন: একসাথে অনেক মানুষ একই টাওয়ারের অধীনে কথা বললে নেটওয়ার্কের ওপর চাপ পড়ে।
- ৩. হ্যান্ডসেটের ত্রুটি: অনেক সময় ফোনের সফটওয়্যার বা সিম কার্ডের পুরনো সংস্করণের কারণেও সিগন্যাল দুর্বল থাকে।
সমাধানের উপায়
আপনার ফোনে বারবার কল ড্রপ হলে নিচের পদক্ষেপগুলো নিয়ে দেখতে পারেন:
-
ভোল্টি (VoLTE) সুবিধা চালু করা: বর্তমানে দেশের প্রধান অপারেটরগুলো ‘ভয়েস ওভার এলটিই’ বা ভোল্টি সেবা দিচ্ছে। ফোনের সেটিংসে গিয়ে এটি চালু করলে এইচডি কোয়ালিটির কথা বলা যায় এবং কল ড্রপের হার কমে আসে।
-
সফটওয়্যার আপডেট: স্মার্টফোনের অপারেটিং সিস্টেম (OS) সব সময় আপডেট রাখুন। অনেক সময় নেটওয়ার্ক সেটিংসের ত্রুটি কোম্পানিগুলো আপডেটের মাধ্যমে ঠিক করে দেয়।
-
সিম কার্ড পরিবর্তন: আপনার সিমটি যদি অনেক বছরের পুরনো হয়, তবে সেটি পরিবর্তন করে নতুন ফোর-জি (4G) সিম সংগ্রহ করুন। পুরনো সিমের চিপ অনেক সময় ঠিকমতো সিগন্যাল ধরতে পারে না।
-
ওয়াই-ফাই কলিং: ঘরে বা অফিসে নেটওয়ার্ক খুব দুর্বল থাকলে ওয়াই-ফাই কলিং ফিচারটি ব্যবহার করতে পারেন। এতে মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকলেও ওয়াই-ফাইয়ের মাধ্যমে স্বচ্ছন্দে কথা বলা যায়।
-
নেটওয়ার্ক সেটিংস রিসেট: যদি সমস্যা খুব বেশি হয়, তবে ফোনের ‘Network Settings Reset’ অপশনটি ব্যবহার করুন। এতে নেটওয়ার্ক কনফিগারেশন পুনরায় নতুন করে সেট হবে।
অভিযোগ করবেন যেখানে
উপরের পদ্ধতিগুলো অনুসরণের পরও যদি সমস্যা না মেটে, তবে আপনার অপারেটরের কাস্টমার কেয়ারে (যেমন- ১২১) অভিযোগ জানান। সেখানে সমাধান না পেলে বিটিআরসির হেল্পলাইন ১০০ নম্বরে কল করে সরাসরি অভিযোগ করার সুযোগ রয়েছে।
এম. এইচ. মামুন










