লিউডের একসময়ের জনপ্রিয় জুটি মমতাজ ও ধর্মেন্দ্র একাধিক ছবিতে দর্শক হৃদয় জিতেছেন। ‘সিতারা’, ‘রাম-অবতার’ ও ‘চাঁদনি রাত’ সহ অনেক ছবিতে তাদের জুটি দর্শকদের কাছে বিশেষ স্থান করে নিয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি ধর্মেন্দ্রের মৃত্যুর খবর সকলকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। এই শোকের সময়ে একসময়ের নায়িকা মমতাজ হাসপাতাল গিয়ে শেষবার তার সহশিল্পীকে চোখের দেখা করেছেন। মমতাজ জানান, ধর্মেন্দ্রের অসুস্থতার খবর পেয়ে তিনি ছুটে গিয়েছিলেন এবং শেষবার অভিনেতাকে দেখতে পেয়ে তার হৃদয় ভীষণ দুলেছে।
মমতাজ স্মৃতিচারণে বলেন, “কী সুন্দর ছিল সেই দিন। আমি যখন হাসপাতালের কক্ষে গিয়েছিলাম, তখনও তার মধ্যে সেই উদারতা, মজবুত ভাব এবং মানুষকে আনন্দ দেওয়ার মন ছিল। তিনি আমাদের সঙ্গে নাশ্তা করেছিলেন এবং আমাদের সঙ্গে গল্পও করেছিলেন। মনে হয়, সে দিনটিই শেষ সাক্ষাৎ হবে, তা তখন ভাবতে পারিনি।” তিনি আরও বলেন, “ধর্মেন্দ্র তখনও আমাকে দেখার সঙ্গে সঙ্গে হাসলেন। তার হাসি, চোখের দীপ্তি সবকিছু মনে এখনও রয়ে গেছে। আমি বিশ্বাস করতাম যে, তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন।”
সেই সময় তিনি প্রথমবার ধর্মেন্দ্রের স্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তার স্মৃতিতে সেই অভিজ্ঞতাও খুব সুন্দরভাবে রয়ে গেছে। তিনি বলেন, “অভিনেত্রীর সঙ্গে দেখা খুবই সুন্দর ছিল। তারা দুজনেই ভীষণ ভদ্র এবং অতিথি-সেবার মান খুব ভালো ছিল। আমরা নাশ্তা করতে বসেছিলাম, এবং তখন মনে হয়েছিল, সব ঠিক হয়ে যাবে।”
হেমা মালিনীর জন্য এই ক্ষতির গভীরতা। তিনি বলেন, “হেমার জন্য খুব খারাপ লাগছে। কারণ ধর্মেন্দ্রই হেমার জীবনের একমাত্র ভালোবাসা। হেমা শুধু একটিমাত্র পুরুষকে ভালোবেসেছে, আর তার চলে যাওয়ায় যে শূন্যতা তৈরি হলো, সেটা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। সত্যিই একজন নায়িকার জীবনে এমন দুঃখের মুহূর্ত ভীষণ কঠিন।”
চলচ্চিত্র জগতের এই দম্পতির জীবন ছিল এক অনন্য গল্প। তাদের পারস্পরিক সম্মান, বন্ধুত্ব এবং সহানুভূতির সম্পর্ক প্রমাণ করে, তারা শুধু পর্দার নায়ক-নায়িকা ছিলেন না, বরং বাস্তব জীবনেরও উদাহরণ। ধর্মেন্দ্রের মৃত্যু শুধু বলিউড নয়, সমগ্র চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্যই একটি বড় ক্ষতি। মমতাজের এই স্মৃতিকথা, হেমা মালিনীর প্রতি তার সহানুভূতি এবং শেষ দেখা-সাক্ষাৎ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, সেলিব্রিটি হলেও সম্পর্ক এবং মানবিক অনুভূতি সবসময়ই অমুল্য।
বিথী রানী মণ্ডল/










