ক্রমবর্ধমান এআই ডেটা সেন্টারের চাহিদায় র্যাম সরবরাহে দেখা দিয়েছে তীব্র সংকট। পাশাপাশি এসএসডি বাজারেও চাহিদার তুলনায় সরবরাহ একেবারেই কম। এ দুটি যন্ত্রাংশের ঘাটতিতে প্রযুক্তি বাজারে কী প্রভাব পড়বে জেনে নিন।
বাজারে অনেক ব্র্যান্ডের র্যাম ও এসএসডি পাওয়া যায়। তবে র্যাম তৈরিতে ব্যবহৃত মেমরি চিপ এবং এসএসডির মধ্যে থাকা ন্যান্ড মডিউল তৈরি করে হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। বাজারের ৯০ শতাংশ দখলে রেখেছে এসকে হাইনিক্স, স্যামসাং, মাইক্রন এবং সিএক্সএমটি।
বিশ্ববাজারের চিত্র
সরবরাহ সংকটে বিশ্ববাজারে র্যামের দাম অকল্পনীয়ভাবে বেড়েছে। উচ্চগতির ডিডিআর৫ র্যামের দাম কিছু কিছু দোকানে লাখ টাকাও ছাড়িয়েছে। প্রযুক্তি অনুরাগীরা ইউটিউব, রেডিট বা এক্সে অহরহ পোস্ট করছে অদ্ভুত সব বিনিময়ের গল্প। ১২৮ জিবি র্যামের বিনিময়ে হাই পারফরম্যান্স গ্রাফিকস কার্ড পাওয়ার পোস্ট গণমাধ্যমগুলো রীতিমতো ফলাও করে প্রচার করেছে। কেউ কেউ পোস্ট করছে, র্যামের বিনিময়ে গাড়ি পেতে আগ্রহী তারা। বেশির ভাগ পিসি পার্টস বিক্রেতারা ৫০ থেকে ৭৫ শতাংশ বেশি মূল্যে র্যাম বিক্রি করছে। এসএসডির মূল্যও বাড়তে শুরু করেছে, ১০ থেকে ৩০ শতাংশ হারে বেড়ে গেছে দাম। আগামী ২০২৬ সালে এ সংকট আরো বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্যামসাংয়ের র্যাম চিপ তৈরির শাখা তাদের স্মার্টফোন শাখার কাছেও র্যাম বিক্রি করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। বাজেট স্মার্টফোন নির্মাতারা জানিয়েছে, ২০২৬ সালের মডেলগুলোতে র্যাম এবং স্টোরেজের পরিমাণ কমানো হবে। পাশাপাশি স্মার্টফোনের মূল্যও ২০ থেকে ৪০ শতাংশ বাড়বে শুধু র্যাম ও স্টোরেজ সরবরাহ সংকটের কারণে।
দেশেও ঘনীভূত হচ্ছে সংকট
প্রায় দ্বিগুণ মূল্যে দেশের বাজারে বিক্রি হচ্ছে র্যাম। অনেক বিক্রেতা আলাদাভাবে র্যাম বিক্রি করছে না, পুরো পিসি না কিনলে র্যাম পাওয়া যাবে না। আমদানীকারকদের কাছ থেকে বড় লট ধরে র্যাম কিনে রাখছে খুচরা বিক্রেতারা। এসএসডির মূল্যও ১০-৩০ শতাংশ বেশি, বাজারে সরবরাহও কম। সাধ ও সাধ্যের মধ্যে সমন্বয় করতে তাই স্বনামধন্য ব্র্যান্ডের বাইরে নবীন ব্র্যান্ডগুলোর এসএসডি কেনায় ঝুঁকছে অনেক ক্রেতা। সেকেন্ড হ্যান্ড বাজারে র্যামের আকাশছোঁয়া দাম হাঁকাচ্ছে অনেকে। কিছু ক্রেতা অভিযোগ করেছে, র্যাম বাজারে সিন্ডিকেট সৃষ্টি হয়েছে, তাদের ধরা মূল্য ছাড়া র্যাম কেনার উপায় নেই।
এই সংকটকে ছোট করে দেখার উপায় নেই। স্মার্টফোন, মেমরি কার্ড, পেনড্রাইভের দামও এ কারণে বাড়তে থাকবে। এসএসডি সংকটের ফলে হার্ড ডিস্কের চাহিদা বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে হার্ড ডিস্কের মূল্যও কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেসব যন্ত্রাংশের মূল্যও ২০২৮ সালের আগে কমার সম্ভাবনা নেই।










