র‍্যাম সংকটে প্রযুক্তি বিশ্ব

A male caucasian right hand installing memory on a computer motherboard.

ক্রমবর্ধমান এআই ডেটা সেন্টারের চাহিদায় র‌্যাম সরবরাহে দেখা দিয়েছে তীব্র সংকট। পাশাপাশি এসএসডি বাজারেও চাহিদার তুলনায় সরবরাহ একেবারেই কম। এ দুটি যন্ত্রাংশের ঘাটতিতে প্রযুক্তি বাজারে কী প্রভাব পড়বে জেনে নিন।

এখন চলছে এআইয়ের যুগ। এই বছরজুড়ে জ্যামিতিক হারে বেড়েছে এআইয়ের ব্যবহার, ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনা সরকারও এআইসেবা প্রসারে কাজ শুরু করেছে। প্রতিটি দেশেই চলছে ডেটা সেন্টার তৈরির ধুম। হার্ডওয়্যারের চাহিদা এখন আকাশচুম্বী। বিশেষায়িত এআই হার্ডওয়্যারের বাজার ছাড়িয়ে এর প্রভাব এখন ভোক্তা পর্যায়ের কম্পিউটার এবং স্মার্ট ডিভাইসের বাজারেও পড়তে শুরু করেছে।

সংকটের নেপথ্যে কী

বাজারে অনেক ব্র্যান্ডের র‌্যাম ও এসএসডি পাওয়া যায়। তবে র‌্যাম তৈরিতে ব্যবহৃত মেমরি চিপ এবং এসএসডির মধ্যে থাকা ন্যান্ড মডিউল তৈরি করে হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। বাজারের ৯০ শতাংশ দখলে রেখেছে এসকে হাইনিক্স, স্যামসাং, মাইক্রন এবং সিএক্সএমটি।

 

বাদবাকি ১০ শতাংশ মাত্র কিওশিয়া, এভারস্পিন বা উইনবন্ডের দখলে। ব্যক্তি পর্যায়ে ব্যবহৃত পিসি, ল্যাপটপ, ট‌্যাবলেট বা স্মার্টফোনের মেমরি ও স্টোরেজ তৈরির জন্য সেসব চিপ পাইকারিতে কিনে থাকে সেসব ডিভাইসের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। এআই বাজারের প্রসারে হঠাৎ করেই এইচবিএম মেমরি এবং উচ্চগতির ন্যান্ড চিপের অস্বাভাবিক চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে। চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে চিপ নির্মাতারা, এআইয়ের জন্য হার্ডওয়্যার তৈরি করলে লাভের পরিমাণও গ্রাহক পর্যায়ের হার্ডওয়্যার তৈরির চেয়ে বেশি। ফলাফল, চিপ নির্মাতারা আগামী এক বছরের পুরো প্রোডাকশন ক্যাপাসিটি এআই ডেটা সেন্টারের হার্ডওয়্যার সরবরাহের জন্য আগাম বিক্রি করেছে। এইচবিএম-এর মতো এতটা বেশি নয় ন্যান্ডের চাহিদা। এর পরও বাজারে ন্যান্ডের সংকট, কারণ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো ন্যান্ড তৈরি বাদ দিয়ে সেসব কারখানায় উৎপাদন করছে এইচবিএম। চলমান অর্থনৈতিক মন্দায় ২০২২ সালের পর থেকে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদনক্ষমতা কমিয়ে ফেলেছে, সেটাও বর্তমান সংকটের জন্য কিছুটা দায়ী। 

বিশ্ববাজারের চিত্র

সরবরাহ সংকটে বিশ্ববাজারে র‌্যামের দাম অকল্পনীয়ভাবে বেড়েছে। উচ্চগতির ডিডিআর৫ র‌্যামের দাম কিছু কিছু দোকানে লাখ টাকাও ছাড়িয়েছে। প্রযুক্তি অনুরাগীরা ইউটিউব, রেডিট বা এক্সে অহরহ পোস্ট করছে অদ্ভুত সব বিনিময়ের গল্প। ১২৮ জিবি র‌্যামের বিনিময়ে হাই পারফরম্যান্স গ্রাফিকস কার্ড পাওয়ার পোস্ট গণমাধ্যমগুলো রীতিমতো ফলাও করে প্রচার করেছে। কেউ কেউ পোস্ট করছে, র‌্যামের বিনিময়ে গাড়ি পেতে আগ্রহী তারা। বেশির ভাগ পিসি পার্টস বিক্রেতারা ৫০ থেকে ৭৫ শতাংশ বেশি মূল্যে র‌্যাম বিক্রি করছে। এসএসডির মূল্যও বাড়তে শুরু করেছে, ১০ থেকে ৩০ শতাংশ হারে বেড়ে গেছে দাম। আগামী ২০২৬ সালে এ সংকট আরো বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্যামসাংয়ের র‌্যাম চিপ তৈরির শাখা তাদের স্মার্টফোন শাখার কাছেও র‌্যাম বিক্রি করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। বাজেট স্মার্টফোন নির্মাতারা জানিয়েছে, ২০২৬ সালের মডেলগুলোতে র‌্যাম এবং স্টোরেজের পরিমাণ কমানো হবে। পাশাপাশি স্মার্টফোনের মূল্যও ২০ থেকে ৪০ শতাংশ বাড়বে শুধু র‌্যাম ও স্টোরেজ সরবরাহ সংকটের কারণে।

দেশেও ঘনীভূত হচ্ছে সংকট

প্রায় দ্বিগুণ মূল্যে দেশের বাজারে বিক্রি হচ্ছে র‌্যাম। অনেক বিক্রেতা আলাদাভাবে র‌্যাম বিক্রি করছে না, পুরো পিসি না কিনলে র‌্যাম পাওয়া যাবে না। আমদানীকারকদের কাছ থেকে বড় লট ধরে র‌্যাম কিনে রাখছে খুচরা বিক্রেতারা। এসএসডির মূল্যও ১০-৩০ শতাংশ বেশি, বাজারে সরবরাহও কম। সাধ ও সাধ্যের মধ্যে সমন্বয় করতে তাই স্বনামধন্য ব্র্যান্ডের বাইরে নবীন ব্র্যান্ডগুলোর এসএসডি কেনায় ঝুঁকছে অনেক ক্রেতা। সেকেন্ড হ্যান্ড বাজারে র‌্যামের আকাশছোঁয়া দাম হাঁকাচ্ছে অনেকে। কিছু ক্রেতা অভিযোগ করেছে, র‌্যাম বাজারে সিন্ডিকেট সৃষ্টি হয়েছে, তাদের ধরা মূল্য ছাড়া র‌্যাম কেনার উপায় নেই।

 

এই সংকটকে ছোট করে দেখার উপায় নেই। স্মার্টফোন, মেমরি কার্ড, পেনড্রাইভের দামও এ কারণে বাড়তে থাকবে। এসএসডি সংকটের ফলে হার্ড ডিস্কের চাহিদা বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে হার্ড ডিস্কের মূল্যও কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেসব যন্ত্রাংশের মূল্যও ২০২৮ সালের আগে কমার সম্ভাবনা নেই।

 

-মাহমুদ