বর্তমান ডিজিটাল যুগে প্রতারণার জাল বিস্তৃত হচ্ছে ইন্টারনেটে। অনেক সময় হুবহু আসল ওয়েবসাইটের মতো দেখতে ভুয়া সাইট বানিয়ে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য ও টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সাইবার অপরাধীরা। পাঠকদের সচেতন করতে আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদন।
অনলাইনে কেনাকাটা, ব্যাংকিং লেনদেন বা তথ্য অনুসন্ধানে আমরা প্রতিদিন অসংখ্য ওয়েবসাইট ব্যবহার করি। কিন্তু আপনি যে সাইটটি ব্যবহার করছেন, সেটি আসল তো? সামান্য অসতর্কতায় আপনি পড়তে পারেন বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকিতে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটু সচেতন হলেই ভুয়া ওয়েবসাইট শনাক্ত করা সম্ভব। নিচে ভুয়া ওয়েবসাইট চেনার প্রধান কিছু লক্ষণ তুলে ধরা হলো:
১. ইউআরএল (URL) বা লিংকে ভুল বানান
প্রতারকরা সাধারণত নামী কোনো ওয়েবসাইটের নামের বানানে সামান্য পরিবর্তন করে ভুয়া সাইট তৈরি করে। যেমন: facebook.com-এর বদলে faceboook.com (একটি ‘o’ বেশি) বা daraz.com.bd-এর বদলে daraz-offers.com ব্যবহার করা। তাই কোনো লিংকে ক্লিক করার আগে বানানটি খুব ভালো করে পরীক্ষা করুন।
২. নিরাপত্তা সংকেত বা ‘প্যাডলক’ আইকন
ব্রাউজারের অ্যাড্রেস বারের বাম পাশে একটি ছোট তালার মতো চিহ্ন (Padlock) থাকে। এটি নির্দেশ করে যে সাইটটি নিরাপদ বা এনক্রিপ্টেড। সাইটের ঠিকানা যদি https:// দিয়ে শুরু হয় (এখানে ‘s’ মানে Secure), তবে সেটি সাধারণত নিরাপদ। কিন্তু সাইটটি যদি শুধু http:// দিয়ে শুরু হয়, তবে সেখানে ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
৩. অতিরিক্ত লোভনীয় অফার
যদি কোনো ওয়েবসাইটে অবিশ্বাস্য মূল্যছাড় বা “বিনামূল্যে আইফোন” দেওয়ার মতো অফার দেখেন, তবে শুরুতেই সন্দেহ করুন। স্ক্যামাররা মানুষকে প্রলুব্ধ করতে এ ধরনের চটকদার বিজ্ঞাপন ব্যবহার করে। মনে রাখবেন, ইন্টারনেটে কোনো কিছুই সাধারণত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাওয়া যায় না।
৪. নিম্নমানের ডিজাইন ও অসংলগ্ন লেখা
একটি পেশাদার প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট সাধারণত পরিচ্ছন্ন এবং নির্ভুল হয়। ভুয়া সাইটগুলোতে প্রায়ই নিম্নমানের ছবি, ভাঙা লোগো এবং প্রচুর বানান বা ব্যাকরণগত ভুল দেখা যায়। এছাড়া সাইটের ‘Contact Us’ পাতায় যদি কোনো বৈধ ঠিকানা বা ফোন নম্বর না থাকে, তবে সেটি ভুয়া হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
৫. পপ-আপ বিজ্ঞাপনের আধিক্য
লিংকে ক্লিক করার সাথে সাথে যদি একের পর এক অপ্রাসঙ্গিক পপ-আপ বিজ্ঞাপন আসতে থাকে বা আপনাকে অন্য কোনো সাইটে রিডাইরেক্ট (Redirect) করে নিয়ে যায়, তবে দ্রুত সেই সাইটটি বন্ধ করে দিন। এগুলো ম্যালওয়্যার ছড়ানোর অন্যতম মাধ্যম।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শঃ যেকোনো অচেনা লিংকে ক্লিক করার আগে বা অনলাইনে টাকা লেনদেনের আগে সবসময় ডোমেইন নেম যাচাই করুন। সন্দেহ হলে সেই প্রতিষ্ঠানের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ বা হেল্পলাইনে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হয়ে নিন।
নিজে সচেতন হোন এবং অন্যকে সাইবার জালিয়াতি থেকে রক্ষা পেতে সাহায্য করুন।
-এম. এইচ. মামুন










