ওভারথিংকিংয়ের বা মাত্রারিক্ত দুশ্চিন্তার কুফল ও সুফল

ওভারথিংকিং নিয়ে যন্ত্রণায় থাকি আমরা অনেকেই। এটিকে স্বাভাবিক বলে ধারণা করা হলেও এই মাত্রাতিরিক্ত চিন্তাকেই বলা হয় দুশ্চিন্তা। কী হওয়ার ছিল, কী হলো না। হলে ভালো বা খারাপ হতো সেই ভাবনায় বিভোর থাকা। এই চিন্তা-ভাবনা কিন্তু বেশিরভাগ সময়ে হয় অতীত, না হয় ভবিষ্যত কেন্দ্রিক। ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা– অনেকেই ভবিষ্যতে কী হবে তা নিয়ে অযথা চিন্তা করেন, যা উদ্বেগ বাড়ায়। অতীতের ঘটনা নিয়ে অনুশোচনা– কেউ কেউ অতীতের ভুলগুলো নিয়ে বেশি ভাবেন, যা হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

ওভারথিংকিং কেন হয়? গবেষণায় দেখা গিয়েছে, নেতিবাচক মানসিকতা, আত্মবিশ্বাসের অভাব, পারফেকশনিজম, অতিরিক্ত তথ্য যা ওভারথিংকিংয়ের অন্যতম কারণ। ওভারথিংকিং বন্ধ করা সম্ভব, তবে এটি ধাপে ধাপে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। বর্তমান মুহূর্তে থাকা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ানো, অতিরিক্ত তথ্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকা,
ভাবনাগুলো একটি ডায়েরিতে লেখা, ব্যবস্ত থাকা, মনোবিজ্ঞানী বা কাউন্সিলরের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।

ওভারথিংকিং হওয়া মানেই যে খারাপ, তা কিন্তু নয়। বরং এর আছে বেশ কিছু ইতিবাচক দিক। সমীক্ষা জানাচ্ছে, সঙ্গী হিসেবে ওভারথিঙ্কাররা অতুলনীয়। তাঁরা সাধারণত শক্তিশালী ও গভীর আবেগের অধিকারী। বিশ্লেষণধর্মী, অত্যন্ত সহানুভূতিশীল ও সমস্যা সমাধানে দক্ষ। তাঁরা অন্যের চাপ বুঝতে পারেন এবং ইমোশনাল সাপোর্ট দেওয়ার বেলায় দারুণ। বিভিন্ন সম্ভাবনা ভেবে দেখা ওভারথিঙ্কারদের অভ্যাস। ফলে কোনো বেকায়দা অবস্থায় পড়ার আগেই ভেবে রাখেন। এ কারণেই ওভারথিঙ্কাররা সাধারণত সমস্যা সমাধানে অসাধারণ।