পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের গুলিবর্ষণে চার বাংলাদেশি গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাত অনুমান সাড়ে ১২টার দিকে দেশটির রাজধানীর বাঙালি অধ্যুষিত এলাকা বেনফর্রমোচা রোডের উজান ভাটি রেস্টুরেন্টের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, দুই থেকে তিনজন আফ্রিকান অস্ত্রধারী ব্যক্তি প্রাইভেটকারে রেস্টুরেন্টের সামনে এসে থামে। তারা মুখোশ পরিহিত ছিল এবং দ্রুত ভেতরে প্রবেশ করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে। মুহূর্তেই পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রেস্টুরেন্টের ভেতরে থাকা লোকজন চিৎকার করে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, কেউ কেউ টেবিলের নিচে বা রান্নাঘরের ভেতরে আশ্রয় নেন। গুলির শব্দে আশপাশের দোকানপাটও দ্রুত বন্ধ হয়ে যায় এবং স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশে খবর দেন। আহতদের মধ্যে রেস্টুরেন্টের কর্মচারী ও কয়েকজন ক্রেতা রয়েছেন।
চিকিৎসকের প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, কয়েকজনের শরীরে গুলি লেগেছে, আবার কেউ কেউ ভিড়ের মধ্যে ধাক্কাধাক্কিতে আহত হয়েছেন। একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেলেও বাকিদের অবস্থা স্থিতিশীল।
হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, হামলায় আহতদের প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং আহতদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
হামলার ঘটনার পরপরই পর্তুগালের জাতীয় পুলিশ বাহিনী (পিএসপি) এলাকা ঘিরে ফেলে। ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ জব্দ করে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি পরিকল্পিত হামলা। হামলাকারীরা নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু নিয়েই এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এটি ব্যক্তিগত শত্রুতা, ব্যাবসায়িক দ্বন্দ্ব, চাঁদাবাজি নাকি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের অংশ, তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। সন্দেহভাজনদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পর্তুগালের লিসবনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ঘটনার পরপরই আহতদের খোঁজখবর নিতে শুরু করেছে। দূতাবাসের এক কর্মকর্তা জানান, তারা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং আহতদের চিকিৎসা ও আইনি সহায়তার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন। প্রয়োজনে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। দূতাবাস প্রবাসীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে গুজবে কান না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
-সাইমুন










