আন্তর্জাতিক ডেস্ক
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ আজ পাঁচ বছরে পা দিয়েছে। ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে শুরু হওয়া এই সামরিক হস্তক্ষেপ এখন এক ভয়াবহ বৈশ্বিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে।
হতাহতের ভয়াবহ চিত্র
এই দীর্ঘ যুদ্ধে উভয় পক্ষেই ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার রুশ সেনা নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইউক্রেনীয় বাহিনীর হতাহতের সংখ্যা প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ, যার মধ্যে নিহত, আহত ও নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ১ লাখ ৪০ হাজার জন।
কার নিয়ন্ত্রণে কতটুকু?
২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখলের পর ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনের প্রায় ২৭ শতাংশ ভূখণ্ড দখল করে নেয়। যদিও ইউক্রেন পরবর্তীতে বিশাল এলাকা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়, তবুও বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ অঞ্চল রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এর মধ্যে ক্রিমিয়া, পূর্বাঞ্চলের দোনবাস এবং দক্ষিণের খেরসন ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের বড় অংশ অন্তর্ভুক্ত।
বদলে গেছে যুদ্ধের ধরণ
যুদ্ধের শুরুতে গোলাবর্ষণ ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রাধান্য পেলেও, এখন ড্রোনের ব্যবহার কয়েকগুণ বেড়েছে। ২০২৩ সালে যেখানে বিমান ও ড্রোন হামলা ছিল ছয় হাজার, সেখানে ২০২৫ সালে তা ২৯ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। রাশিয়া মূলত ‘শাহেদ’ ধরণের ড্রোন ব্যবহার করছে।
বিশ্বনেতাদের প্রতিক্রিয়া ও অবস্থান
যুদ্ধের পঞ্চম বার্ষিকীতে ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন জানাতে কিয়েভে পৌঁছেছেন ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কস্তা এবং ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডের লেইন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, “রাশিয়া তার লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।” ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুতে বলেছেন, “রক্তপাত বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমরা ইউক্রেনের পাশে আছি।”
অন্যদিকে, রাশিয়া তার আগের অবস্থানেই অনড়। মস্কো জানিয়েছে, লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত তাদের লড়াই চলবে।
অর্থনীতিতে আঘাত
এই যুদ্ধ উভয় দেশের অর্থনীতিতেই মারাত্মক আঘাত হেনেছে। রাশিয়ার অর্থনীতি ধীর হয়ে গেছে এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা ব্যাপক চাপের মধ্যে রয়েছে। অন্যদিকে, ইউক্রেনের অর্থনীতি আক্রমণের প্রথম বছরেই প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সংকুচিত হয়েছে।
সূত্র: সিএনএন, আল-জাজিরা










