সৌদিতে এক সপ্তাহে ১৯ হাজার অবৈধ অভিবাসী আটক

সৌদি আরব তাদের সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার এবং শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে দেশজুড়ে এক বিশাল অভিযান শুরু করেছে। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৭ জানুয়ারির মধ্যে মাত্র সাত দিনে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী বিভিন্ন আইন লঙ্ঘনের দায়ে ১৮,৮৩৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সমন্বিত এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো রাজ্যে আবাসন ও শ্রম আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা।

এই গ্রেপ্তার অভিযানগুলো এলোমেলো ছিল না, বরং সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে সিংহভাগই আবাসন আইন (Residency Law) লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত, যার সংখ্যা ১১,৭১০ জন। এছাড়া সীমান্ত নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের জন্য ৪,২৩৯ জন এবং শ্রম আইন লঙ্ঘনের দায়ে ২,৮৮৭ জনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে সরকার প্রায় ৩০,০০০ প্রবাসীর (যার মধ্যে ১,৬০০-এর বেশি নারী) আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে। প্রত্যেকটি মামলা আইন অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করার পরই তাদের বৈধ করা বা দেশে ফেরত পাঠানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সমস্যা সমাধানের অংশ হিসেবে দ্রুত প্রত্যাবাসন কার্যক্রমও চলছে। গত এক সপ্তাহে সৌদি কর্তৃপক্ষ ১০,১৯৫ জন অবৈধ অভিবাসীকে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া ২০,৯০০ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে ট্রাভেল পারমিট সংগ্রহের জন্য নিজ নিজ দেশের কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে এবং আরও ৫,২০০ জন বর্তমানে তাদের বিমানের টিকিট নিশ্চিত করার প্রক্রিয়ায় আছেন।

অভিযানের একটি বড় অংশ ছিল সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকানো। নিরাপত্তা বাহিনী সীমান্তে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টাকালে ১,৭৪১ জনকে আটক করেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে ৬০ শতাংশই ইথিওপিয়ান এবং ৩৯ শতাংশ ইয়েমেনি নাগরিক। বাকি ১ শতাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিক।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবৈধ অভিবাসীদের সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। তারা জানিয়েছে, অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয়, পরিবহন বা কাজ দেওয়া গুরুতর অপরাধ। এই অভিযানের সময় এমন সহায়তার অভিযোগে ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই অপরাধের শাস্তি হিসেবে ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল (প্রায় ২,৬৭,০০০ ডলার) পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। এছাড়া অপরাধে ব্যবহৃত যানবাহন ও বাসস্থান বাজেয়াপ্ত করার কথাও জানানো হয়েছে। সন্দেহজনক কার্যকলাপের রিপোর্ট করার জন্য নাগরিকদের হটলাইন নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

-ডেস্ক রিপোর্ট