সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শিক্ষার্থী-সাংবাদিককে মারধর, ডিসি মাসুদসহ পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহার ও বিচার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে শিক্ষার্থী ও সংবাদকর্মীদের মারধরের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও প্রশ্ন উঠেছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে তল্লাশির নামে হয়রানি ও সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই নাগরিকদের ওপর চড়াও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।

এই ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে ডিসি মাসুদ আলমসহ জড়িত পুলিশ সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), ডাকসুসহ বিভিন্ন মানবাধিকার ও ছাত্র সংগঠন।

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত
সোমবার রাত ৮টায় পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলমের নেতৃত্বে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হয়। এসময় সেখানে উপস্থিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাইম উদ্দীন এবং দুজন সংবাদকর্মীকে পুলিশ সদস্যরা বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ ওঠে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক কাওসার আহম্মেদ রিপন বলেন, “পরিচয় দেওয়ার পরও আমাদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয়।” অন্যদিকে, শিক্ষার্থী নাঈম উদ্দীনের ওপর হামলার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায় ডিসি মাসুদ আলমের সঙ্গে কথা বলার সময় তাকে টেনেহিঁচড়ে মাটিতে ফেলে পেটানো হচ্ছে।

বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড়
এই ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শাহবাগ থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন। তারা ‘হারুন গেছে যে পথে, মাসুদ যাবে সে পথে’, ‘আমার ভাইকে মারল কেন, প্রশাসন জবাব চাই’—ইত্যাদি স্লোগান দেন এবং ডিসি মাসুদসহ জড়িতদের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনও দুপুরে রাজু ভাস্কর্যের সামনে মানববন্ধন করে এবং পুলিশি ব্যবস্থার কার্যকর সংস্কারের দাবি জানায়।

আইনি প্রশ্ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, বাংলাদেশের কোনো আইনেই পুলিশকে সন্দেহভাজন বা আটক ব্যক্তিকে মারধর বা শারীরিক নির্যাতন করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। সংবিধানের ৩৫(৫) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে যন্ত্রণা দেওয়া বা তার সঙ্গে নিষ্ঠুর আচরণ করা মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
এ বিষয়ে পুলিশের রমনা বিভাগের ডিসি মাসুদ আলম বলেন, “অভিযানে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। মাদকসেবীদের আটক করার সময় পুলিশ সাংবাদিকদের চিনতে পারেনি, যা একটি ভুল বোঝাবুঝি।”

তিনি জানান, এই ঘটনায় চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ কন্ট্রোল রুমে পাঠানো হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

মোঃ আশফুল আলম