ইরানে চলমান সরকারবিরোধী গণবিক্ষোভ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের প্রচ্ছন্ন হুমকিকে কেন্দ্র করে এক জরুরি বৈঠকে মিলিত হয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ (ইউএনএসসি)। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ চলে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানের জনবিক্ষোভকে ‘স্বাধীনতার দাবি’ হিসেবে অভিহিত করছে, অন্যদিকে ইরান একে ‘বিদেশে তৈরি ষড়যন্ত্র’ বলে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
বৈঠকে জাতিসংঘে ইরানের উপরাষ্ট্রদূত গোলাম হোসেইন দারজি সাফ জানিয়ে দেন যে, তার দেশ কোনো সংঘাত বা উত্তেজনা চায় না। তবে যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন চালায়, তবে তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যেকোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ আগ্রাসনের জবাব দেওয়া হবে বৈধ ও আনুপাতিকভাবে। এটি কোনো হুমকি নয়, বরং একটি আইনি বাস্তবতা।”
তিনি ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা উসকে দেওয়ার পেছনে ওয়াশিংটনের ‘সরাসরি সম্পৃক্ততার’ অভিযোগ আনেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি মাইক ওয়াল্টজ ইরানি সরকারের দমন-পীড়নের কড়া সমালোচনা করে বলেন, বিক্ষোভকে বিদেশি ষড়যন্ত্র বলে দাবি করা থেকেই স্পষ্ট যে, ইরান সরকার নিজের দেশের জনগণকেই ভয় পাচ্ছে। তিনি বলেন, “ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে এর আগে কখনোই ইরানি জনগণ এভাবে স্বাধীনতার দাবি জানায়নি।” ইরানে ইন্টারনেট বন্ধ থাকার কারণে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব মার্থা পোবি নিরাপত্তা পরিষদকে জানান, ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে শুরু হওয়া একটি ছোট বিক্ষোভ আজ জাতীয় আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। লাগামহীন মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রার অবমূল্যায়ন থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।
বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার অভিযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ থাকলেও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি তা অস্বীকার করেছেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, “বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেওয়ার কোনো পরিকল্পনাই সরকারের নেই। ফাঁসি কার্যকরের প্রশ্নই ওঠে না।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, নিরাপত্তা পরিষদের এই বৈঠক ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বর্তমান অচলাবস্থা কাটানোর পরিবর্তে উত্তজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। একদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া অবস্থান এবং অন্যদিকে তেহরানের কঠোর সুর—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
-এম. এইচ. মামুন










