২০২৫ সালে পুঁজিবাজারে বিদেশিদের লেনদেনে ২৭০ কোটির ঘাটতি

২০২৫ সালটি দেশের পুঁজিবাজারের জন্য বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জিং একটি বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও নির্বাচন-পূর্ব রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রভাবে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বছরজুড়ে বাজার থেকে নিট ২৭০ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ডিএসইর তথ্যমতে, ২০২৫ সালে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সব মিলিয়ে ২ হাজার ৯৫ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন। এর বিপরীতে তারা মাত্র ১ হাজার ৮২৫ কোটি টাকার শেয়ার কিনেছেন। কেনা ও বেচার এই ব্যবধানে বছর শেষে নিট বিনিয়োগ ঋণাত্মক ধারায় পৌঁছেছে।

বিবরণ ২০২৪ সাল (কোটি টাকা) ২০২৫ সাল (কোটি টাকা)
শেয়ার বিক্রয় ২,০৯৫
শেয়ার ক্রয় ১,৮২৫
নিট বিনিয়োগ -২৬১ -২৭০

ডিএসইর তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, গত আট বছরের মধ্যে সাত বছরই বিদেশিদের নিট বিনিয়োগ ছিল ঋণাত্মক। কেবল ২০২৩ সালে তারা ৬৪ কোটি টাকার নিট ইতিবাচক বিনিয়োগ করেছিলেন। ২০২৪ সালেও বিনিয়োগ কমেছিল ২৬১ কোটি টাকা।

২০২৫ সালের মন্দাভাব কাটিয়ে ২০২৬ সালের শুরুতেই বাজারের চিত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

লেনদেন বৃদ্ধি: ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৫ দিনেই (১–১৫ ফেব্রুয়ারি) বিদেশিদের লেনদেন গত বছরের তুলনায় ৪৮ শতাংশ বেড়েছে।

বিশ্লেষকদের মত: মিডওয়ে সিকিউরিটিজের এমডি মো. আশেকুর রহমান জানান, নির্বাচনের পর বাজারে নতুন তহবিল প্রবাহের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। অনেক বিনিয়োগকারী এখন ফ্রন্টিয়ার মার্কেটের দিকে ঝুঁকছেন। মানসম্মত শেয়ারের সরবরাহ বাড়লে এই প্রবাহ আরও বৃদ্ধি পাবে।

গত বছরের ১২ মাসের মধ্যে মাত্র ৫ মাস বিদেশিদের অবস্থান ইতিবাচক ছিল। বিশেষ করে মে থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত তারা বেশ সক্রিয় ছিলেন, যার প্রভাবে ডিএসইএক্স সূচকও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছিল। কিন্তু সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্বাচনের আগে অনিশ্চয়তা বাড়লে তারা ধারাবাহিকভাবে শেয়ার বিক্রি শুরু করেন।

লামিয়া আক্তার