অস্থিতিশীলতা ও সংকটের ছায়ায় কাগজশিল্পের বড় ক্ষতি

অর্থনৈতিক মন্দা, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি ও রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে দেশের কাগজশিল্প মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বসুন্ধরা পেপার মিলস্ পিএলসির ওপরও। মঙ্গলবার সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত ডিজিটাল বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) এসব বিষয় তুলে ধরা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কোম্পানির উপদেষ্টা ও বিকল্প পরিচালক এ আর রশীদি।

সভায় পরিচালক মণ্ডলীর পক্ষ থেকে বিকল্প পরিচালক ক্যাপ্টেন মো. মাহবুবুল আলম ও মো. মাহবুবুর রহমান এবং স্বতন্ত্র পরিচালক মোস্তফা আজাদ মহিউদ্দিন অংশ নেন। এছাড়া প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুস্তাফিজুর রহমান, চিফ অপারেটিং অফিসার মির্জা মুজাহিদুল ইসলাম, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান, প্রধান অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস হোসেনসহ বিধিবদ্ধ নিরীক্ষক এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভা সঞ্চালনা করেন কোম্পানি সচিব এম. মাজেদুল ইসলাম।

সভায় ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, পরিচালক নির্বাচন ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য বিধিবদ্ধ নিরীক্ষক নিয়োগসহ আলোচ্যসূচি অনুমোদিত হয়। আলোচ্য বছরে কোনো লভ্যাংশ না দেওয়ার সিদ্ধান্তও গ্রহণ করা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে এ আর রশীদি বলেন, বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতির কারণে দেশের অর্থনীতি চ্যালেঞ্জের মুখে। এর প্রভাব কাগজশিল্পেও পড়েছে। অর্থনৈতিক মন্দা, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট, ঋণের উচ্চ সুদ, কাঁচামালের অপ্রতুলতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে কোম্পানির কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। ফলে কোম্পানির মোট আয় আগের বছরের তুলনায় ৫৪.১২ শতাংশ কমেছে।

তবে বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও বসুন্ধরা পেপার মিলস্ পিএলসি প্রায় ৭০ কোটি টাকার কাগজ ও কাগজজাত পণ্য রপ্তানি করতে সক্ষম হয়েছে। সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে এবং বিভিন্ন কর বাবদ প্রায় ৬২ কোটি টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়েছে। শিল্প রক্ষায় সরকারকে বিদেশি কাগজ আমদানি নিয়ন্ত্রণ, কর-শুল্ক হ্রাস ও আলাদা নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানানো হয়।

 

বিথী রানী মণ্ডল/