ইরান-ভেনেজুয়েলা হামলার নেপথ্যে মার্কিন স্পেসফোর্স কি জড়িত

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সর্বকনিষ্ঠ শাখা ‘স্পেস ফোর্স’ সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও ভেনেজুয়েলায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে তাদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। গত জুন মাসে ইরানে পরমাণু স্থাপনায় চালানো ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতারে পরিচালিত ‘অপারেশন অ্যাবসলিউট রিজলভ’-এ এই বাহিনীর সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই দুই অভিযানের সফলতার পর এখন বাহিনীটির পরিধি বাড়ানো এবং আরও বেশি বাজেট বরাদ্দের দাবি জোরালো হচ্ছে।

স্পেস ফোর্সের কমব্যাট ফোর্সেস কমান্ডের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল গ্রেগরি গ্যাগনন এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, এই অভিযানগুলোর সফলতার মূল চাবিকাঠি ছিল মহাকাশে আধিপত্য বজায় রাখা। তিনি একে ‘অদৃশ্য ফ্রন্ট লাইন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ভেনেজুয়েলায় অভিযানের সময় কলোরাডোর শ্রিভার স্পেস ফোর্স বেস থেকে জিপিএস ডাটা এবং স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন নিশ্চিত করা হয়েছিল, যা মাঠ পর্যায়ের সেনাদের নির্ভুল তথ্য সরবরাহ করে। একইসাথে শত্রুপক্ষ যাতে কোনোভাবে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটাতে না পারে, সেদিকেও কড়া নজরদারি রাখা হয়েছিল।

ইরানে পরিচালিত অভিযানের ক্ষেত্রে স্পেস ফোর্সের ভূমিকা ছিল আরও সরাসরি এবং ঝুঁকিপূর্ণ। মার্কিন বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরপরই ইরান যে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল, মহাকাশ ভিত্তিক সেন্সর নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তার সতর্কতা সংকেত পাঠিয়েছিল এই বাহিনীর সদস্যরা। গ্যাগননের মতে, আমেরিকার সামরিক শক্তি প্রদর্শনের প্রতিটি পদক্ষেপে এখন মহাকাশ ভিত্তিক সহায়তা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। তবে এই সাফল্যগুলোতে আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই বলে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন।

ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এই জেনারেল জানান, ইরান বা ভেনেজুয়েলার মতো দেশের বিপক্ষে জয় পাওয়া সহজ হলেও চীন বা রাশিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াইটা হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন। চীনের অ্যারোস্পেস ফোর্সে বর্তমানে প্রায় ৪০ হাজার সদস্য রয়েছে, যেখানে মার্কিন স্পেস ফোর্সের সদস্য সংখ্যা মাত্র ১৫ হাজার। এছাড়া চীন মহাকাশে এমন সব প্রযুক্তি ও স্যাটেলাইট মোতায়েন করছে যা মার্কিন সম্পদকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করতে সক্ষম। এই অসমতা দূর করতে স্পেস ফোর্সের জনবল এবং প্রযুক্তিতে বড় ধরনের বিনিয়োগ প্রয়োজন।

বর্তমানে মার্কিন স্পেস ফোর্স তাদের নজরদারি ক্ষমতা বাড়াতে নতুন প্রযুক্তির স্যাটেলাইট এবং ভূ-পৃষ্ঠে উন্নত রাডার সিস্টেম স্থাপনের কাজ শুরু করেছে। বিশেষ করে কক্ষপথের লড়াইয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের জন্য নতুন ধরনের চালনাযোগ্য স্যাটেলাইট পরীক্ষা করা হচ্ছে। জেনারেল গ্যাগনন স্পষ্ট করে বলেছেন, বর্তমানের স্পেস ফোর্স দিয়ে ভবিষ্যতের বড় কোনো যুদ্ধ জয় করা সম্ভব নয়। একটি শক্তিশালী এবং আধুনিক স্পেস ফোর্স গড়ে তুলতে হলে আরও বেশি সদস্য নিয়োগ এবং পর্যাপ্ত তহবিলের কোনো বিকল্প নেই।

-সাইমুন