ভারতে হিন্দুত্ববাদী উত্থানের নতুন কেন্দ্র সম্ভল, কোণঠাসা মুসলিমরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

উত্তরপ্রদেশের সম্ভল শহর এখন ভারতে হিন্দুত্ববাদী উত্থানের এক নতুন কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, যেখানে সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায় ক্রমবর্ধমান চাপ ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে বসবাস করছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই শহরের বদলে যাওয়া বাস্তবতার এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।

মসজিদ নিয়ে সংঘাতের সূত্রপাত
প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৬ শতকের ঐতিহাসিক শাহি জামে মসজিদকে কেন্দ্র করেই এই উত্তেজনার শুরু। হিন্দুত্ববাদীদের দাবি, মসজিদটি একটি প্রাচীন মন্দিরের ধ্বংসাবশেষের ওপর নির্মিত। এই দাবি নিয়ে আদালতে মামলা হওয়ার পরই শহরজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যা পরবর্তীতে প্রাণঘাতী সংঘাতে রূপ নেয়। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন মুসলিম নিহত হন।

দমন-পীড়ন ও ‘বুলডোজার নীতি’
সংঘর্ষের পর সম্ভলকে কার্যত বহির্বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় এবং প্রায় ২,৭৫০ জন ‘অজ্ঞাতপরিচয়’ ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়, যা স্থানীয় মুসলিমদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। নিহতদের পরিবারগুলো অভিযোগ করেছে, পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা না করার জন্য তাদের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

প্রশাসনের ভূমিকা ও বদলে যাওয়া বাস্তবতা
দ্য নিউইয়র্ক টাইমস উল্লেখ করেছে, সম্ভলের পুলিশ প্রশাসন, বিচার বিভাগ—সবই যেন হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডা বাস্তবায়নে একযোগে কাজ করছে। স্থানীয় পুলিশপ্রধান অনুজ চৌধুরী, যিনি সামাজিক মাধ্যমে পেশিবহুল ছবি ও ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের ভিডিও দিয়ে জনপ্রিয়, সরাসরিই বলেন, “আগে মুসলিমদের তোষণ করার পুলিশি ব্যবস্থা ছিল, এখন আমরা শুধু আইন কার্যকর করছি।”

সম্ভলের জনসংখ্যার তিন-চতুর্থাংশ মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও, এখন তাদের ধর্মীয় উৎসব ও প্রার্থনা ব্যক্তিগত পরিসরেই সীমাবদ্ধ রাখতে হচ্ছে। মসজিদের পাশেই তৈরি করা হয়েছে বিশাল এক পুলিশ স্টেশন, যার দেয়ালে আঁকা হয়েছে মহাভারতের যুদ্ধের দৃশ্য। এই চিত্রটিই যেন শহরের বর্তমান অবস্থাকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরেছে।

মোঃ আশরাফুল আলম