গাজায় এপ্রিলেই এক হাজার সৈন্য পাঠাচ্ছে ইন্দোনেশিয়া?

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর অংশ হিসেবে আগামী এপ্রিল মাসের মধ্যেই গাজায় এক হাজার সৈন্য পাঠানোর প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ইন্দোনেশিয়া। সোমবার দেশটির সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আগামী জুন মাসের মধ্যে মোট আট হাজার সেনার একটি বিশাল বহর গাজায় মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত থাকবে।

তবে এই সেনা মোতায়েনের চূড়ান্ত সময়সূচী এবং সিদ্ধান্ত দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো এবং আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে। এর আগে ইন্দোনেশিয়ার সেনাপ্রধান মারুলি সিমানজুন্তাক জানিয়েছিলেন, মোতায়েনযোগ্য সেনার সংখ্যা পাঁচ থেকে আট হাজারের মধ্যে হতে পারে, যা বর্তমানে আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।

গত শনিবার ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই অভিযানে অংশ নেওয়া মানেই ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করা নয়। জাকার্তা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে কোনো ধরনের জনতাত্ত্বিক পরিবর্তন বা জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার প্রচেষ্টাকে তারা সমর্থন করে না। এই সেনা মোতায়েন মূলত মানবিক সহায়তা ও অ-যুদ্ধকালীন কার্যক্রমের জন্য পরিচালিত হবে এবং এর জন্য ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সম্মতি থাকা বাঞ্ছনীয়। ইন্দোনেশীয় সৈন্যরা সরাসরি কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াবে না কিংবা কোনো পক্ষকে নিরস্ত্রীকরণের ম্যান্ডেট তাদের নেই, যদিও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর মূল ম্যান্ডেটে গাজা উপত্যকা নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এদিকে আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর উদ্বোধনী সম্মেলনে যোগ দেবেন প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো। গাজা পুনর্গঠনে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের লক্ষে আয়োজিত এই সম্মেলনে তিনি ফিলিস্তিনিদের সুরক্ষা এবং দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের পক্ষে সওয়াল করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

-সাইমুন