প্রেস ক্লাবে আওয়ামী পন্থি সাংবাদিকদের শোডাউন

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দেড় বছর পর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে প্রকাশ্যে শোডাউন করেছেন আওয়ামীপন্থি সাংবাদিকরা। জুলাই বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর প্রথমবারের মতো প্রেস ক্লাবের সামনে জড়ো হয়ে মানববন্ধন করেন তারা।

এ সময় তাদের ‘জয় বাংলা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’সহ নানা স্লোগান দিতে দেখা যায়। নতুন সরকার গঠনের পাচ দিনের মাথায় আওয়ামীপন্থি সাংবাদিকরা এ শোডাউন করেন। গত কয়েকদিনে রাজধানীসহ দেশের বেশ কয়েকটি স্থানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ের তালা খুলে মিছিল ও স্লোগান দিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের আওয়ামী অংশের সভাপতি সাজ্জাদ আলম খান তপু ও সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেনের নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন সাংবাদিক গতকাল ভোরে প্রেস ক্লাবের সামনের ফুটপাতে জড়ো হন। সেখানে তারা সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য মানববন্ধন করেন। পরে এসব নেতৃবৃন্দ একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে আওয়ামীপন্থি ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) নামে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তাদের কয়েকজন আবারো প্রেস ক্লাবে ফিরে আসেন। এ সময় তারা প্রেস ক্লাবের নিচ তলায় অবস্থিত ডিইউজে কার্যালয়ের সামনে এসে স্লোগান দেন। স্লোগান নিয়ে তারা ডিইউজের বন্ধ কার্যালয় খুলে দেওয়ার দাবি তোলেন। এসব ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে শেয়ার করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা গেছে তাদের।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) আওয়ামী অংশের সাবেক মহাসচিব ও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী শাবান মাহমুদ প্রেস ক্লাবের সামনের মানববন্ধনের ছবি পোস্ট দিয়ে বলেন, এই কর্মসূচি আশার আলো জাগিয়েছে। এদিকে তাদের কর্মসূচি নিয়ে অনেককে ক্ষোভ প্রকাশও করতে দেখা গেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। কেউ কেউ এসব ফ্যাসিস্ট সাংবাদিককে চিহ্নিত করে জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে বহিষ্কারসহ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলেন।

উল্লেখ্য, চব্বিশের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর বিক্ষুব্ধ জনতা ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের আওয়ামী অংশের অফিস ভাংচুর করে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এরপর থেকে গত দেড় বছর ধরে কার্যালয়টি তালাবদ্ধ।

এদিকে, নতুন সরকারের সময় আওয়ামী সাংবাদিকদের এমন শোডাউনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জুলাই রেভলুশনারি জার্নালিস্টস অ্যালায়েন্স (জেআরজেএ)। সংগঠনটি বলেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছয়জন সাংবাদিকসহ দেড় হাজার ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে যে নতুন বাংলাদেশ আমরা পেয়েছি, তা আবারও কলঙ্কিত করার চেষ্টা করেছে সাংবাদিক পরিচয়ে কতিপয় দুর্বৃত্ত। ২১ ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবসে জাতীয় প্রেস ক্লাব ও শহীদ মিনারকে আবারও কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছে কিছু ‘সাংবাদিক পরিচয়ধারী’ গণহত্যাকারী।মুজিববাদী স্লোগান দেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) প্রেস ক্লাব দখলের অপচেষ্টা করেছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট বাংলাদেশ থেকে মুজিববাদের কবর রচিত হয়েছে। সে মুজিববাদকে পুনরায় জাতীয় প্রেস ক্লাব দখলের উদ্দেশ্যে কাজে লাগাতে চাইছে গণহত্যাকারীরা।

জেআরজেএ বলেছে, আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই— ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু হয়েছে। এই গণতান্ত্রিক যাত্রাকে দুর্বলতা ভেবে দেশে আবারও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ এবং তার সহযোগী সংগঠনগুলো; তার জবাব বাংলাদেশের মাটিতেই দেওয়া হবে। যারা ২১ ফেব্রুয়ারির দিনে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভেতরে মুজিববাদী স্লোগান দিয়েছে এবং একই সঙ্গে পবিত্র শহীদ মিনারে মুজিববাদী স্লোগান দিয়ে বেদীতে ফুল দিয়েছে—তাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

-মেহেরীন/মামুন