ফেনীতে পাঁচ দিনে আবর্জনামুক্ত দাদনার খাল, স্বস্তি স্থানীয়দের

দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে দখল ও দূষণে মৃতপ্রায় দাগনভূঞার দাদনার খালে আবারও ফিরেছে প্রাণ। ময়লার স্তুপের জায়গায় এখন দেখা মিলছে স্বচ্ছ পানির প্রবাহ। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা এতে স্বস্তি প্রকাশ করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একসময় দাগনভূঞা পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ পানি নিষ্কাশন পথ ছিল দাদনার খাল। তবে বছরের পর বছর ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে একটি প্রভাবশালী মহল খালের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ দখল করে নেয়। চলতি বছরে উপজেলা ও পৌর প্রশাসন খালটি দখলমুক্ত করলেও ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হওয়ায় খালটি কার্যত মৃত অবস্থায় ছিল।

নির্বাচনপূর্ব সময়ে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এমপির ছোট ছেলে তাজওয়ার এম আউয়াল খালটি পরিষ্কারের উদ্যোগ নেন। তার অনুরোধে রাজধানীভিত্তিক পরিবেশ সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ফুটস্টেপ খাল পরিষ্কারের কাজ শুরু করে। তবে নির্বাচনী আচরণবিধির কারণে সে সময় উপজেলা প্রশাসন কাজটি সাময়িকভাবে স্থগিত করে।

এ সময় তাজওয়ার এম আউয়াল ঘোষণা দেন, নির্বাচন শেষে জয়-পরাজয় যাই হোক না কেন, খালটি পরিষ্কার করা হবে। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই তিনি পুনরায় উদ্যোগ নেন। ফুটস্টেপের একটি দল টানা পাঁচ দিনের কঠোর পরিশ্রমে দাদনার খাল থেকে ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনে।

দাগনভূঞা বাজারের ব্যবসায়ী ও পৌর এলাকার বাসিন্দা আজমুল হক সুমন বলেন, খালটি ভরাট থাকায় বর্ষাকালে পৌর এলাকায় দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকত এবং বাজারের পানি নিষ্কাশনে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। খাল পরিষ্কারের ফলে এ সমস্যা অনেকটাই লাঘব হবে।

দাগনভূঞা বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন লিটন বলেন, দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হওয়ায় ব্যবসায়ী ও পৌরবাসীর পক্ষ থেকে তাজওয়ার এম আউয়ালকে কৃতজ্ঞতা জানাই। ভবিষ্যতে যেন কোনো প্রভাবশালী মহল খাল দখল করতে না পারে এবং খালটি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি খালটি পূর্ণাঙ্গ সংস্কার করে লেক ও খালপাড়ে ওয়াকওয়ে নির্মাণের প্রস্তাবও দেন।

এ প্রসঙ্গে তাজওয়ার এম আউয়াল বলেন, দাগনভূঞা বাজারে গেলে ময়লাভর্তি খালটি আমার চোখে পড়ে। তখনই আমি ফুটস্টেপকে অনুরোধ করি। আচরণবিধির কারণে কাজ বন্ধ হলেও আমি কথা দিয়েছিলাম, নির্বাচনের পর খাল পরিষ্কার করা হবে। আল্লাহর রহমতে আমরা সেটি বাস্তবায়ন করতে পেরেছি। ভবিষ্যতেও এই কাজ অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দাদনার খাল পুনরায় যেন দখল ও দূষণের শিকার না হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে এটি দাগনভূঞা পৌর এলাকার পরিবেশ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

-সাইমুন