ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় এক বিধবাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও চুল কেটে নির্যাতনের অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী ৪৪ বছর বয়সি এক হিন্দু নারী কালীগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন। মামলার পর পুলিশ অভিযুক্ত হাসান আলীকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে।
ভুক্তভোগী নারী স্বামীর মৃত্যুর পর প্রায় এক দশক ধরে তার ১০ বছর বয়সি একমাত্র ছেলেকে নিয়ে কালীগঞ্জ পৌর এলাকায় বসবাস করে আসছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, গত শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাতে তিনি দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন জানান, মামলার ভিত্তিতে একজনকে আটক করা হয়েছে এবং বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগে বলা হয়, তিনি অভিযুক্ত মো. শাহীনের ভাইয়ের কাছ থেকে বাড়িসহ জমি কিনে সেখানে বসবাস শুরু করার পর থেকেই শাহীন তাকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। কুপ্রস্তাব দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সময় টাকা দাবি করতেন তিনি। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় তার বাড়িতে দুজন আত্মীয় এলে, তাদের সঙ্গে দেখা করার অজুহাতে শাহীন ও হাসান সেখানে প্রবেশ করেন। পরে আত্মীয় দুজনকে একটি কক্ষে আটকে রেখে অন্য কক্ষে নিয়ে গিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়।
নারীর আরও অভিযোগ, ঘটনার পর অভিযুক্তরা আত্মীয়দের সঙ্গে তার অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে— এমন মিথ্যা অভিযোগ তুলে তিনজনকে গাছের সঙ্গে বেঁধে ভিডিও ধারণ করে। এ সময় তাকে মারধর করা হয় এবং চুল কেটে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন, অভিযুক্তরা সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে। ভুক্তভোগী এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আফরিনা সুলতানা/










