চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ভিনিসিয়ুস–প্রেস্টিয়ান্নি ঘটনার নতুন মোড়

চ্যাম্পিয়ন্স লিগ প্লে-অফে রিয়াল মাদ্রিদ ও বেনফিকা ম্যাচের সময় ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে উদ্দেশ্য করে করা মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক নতুন ধাক্কা পেয়েছে। বেনফিকার আর্জেন্টাইন তরুণ ফুটবলার জিয়ানলুকা প্রেস্টিয়ান্নি জানিয়েছেন, তিনি ভিনিসিয়ুসকে বর্ণবাদী মন্তব্য করেননি; বরং স্প্যানিশ ভাষায় একটি সমকামী বিদ্বেষমূলক (অ্যান্টি-গে) গালি ব্যবহার করেছিলেন।

ইএসপিএনের সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার লিসবনের এস্তাদিও দা লুজে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা নিয়ে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করে রিয়ালকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ভিনিসিয়ুস। গোল উদযাপনের পর প্রেস্টিয়ান্নির সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। সেই সময় প্রেস্টিয়ান্নি মুখ ঢেকে কিছু বলতে দেখা যায়। পরে ভিনিসিয়ুস সরাসরি রেফারির কাছে অভিযোগ করেন যে তাকে বর্ণবাদী মন্তব্য করা হয়েছে।

ঘটনার কারণে ম্যাচ প্রায় ১০ মিনিট বন্ধ থাকে, পরে আবার খেলা শুরু হয়। সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০ বছর বয়সী প্রেস্টিয়ান্নি উয়েফাকে জানিয়েছেন, তিনি ‘mono’ (যার অর্থ বানর) শব্দটি ব্যবহার করেননি; বরং স্প্যানিশ ভাষার একটি সমকামী বিদ্বেষমূলক শব্দ ব্যবহার করেছিলেন। রিয়ালের মিডফিল্ডার আরেলিয়েন চুয়ামেনিওও স্প্যানিশ টিভিকে জানিয়েছেন, মুখোমুখি হলে প্রেস্টিয়ান্নি এমনটাই ব্যাখ্যা করেছেন।

রিয়াল মাদ্রিদ ইতোমধ্যেই ঘটনার সব প্রমাণ উয়েফা-র কাছে জমা দিয়েছে। দলের তারকা কিলিয়ান এমবাপে দাবি করেছেন, তিনি নিজে প্রেস্টিয়ান্নিকে একাধিকবার ভিনিসিয়ুসের প্রতি বর্ণবাদী মন্তব্য করতে শুনেছেন। এমবাপে বলেছেন, ‘আমি শুনেছি। বেনফিকার কয়েকজন খেলোয়াড়ও এটি শুনেছে।’

রিয়াল কোচ আলভারো আরবেলোয়া সংবাদ সম্মেলনে প্রেস্টিয়ান্নির শাস্তি দাবি করে বলেন, এই ঘটনা ফুটবলে বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটি ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হতে পারে।

উয়েফার শৃঙ্খলাবিধির ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বর্ণবাদী বা সমকামী বিদ্বেষমূলক মন্তব্য উভয়ের জন্য একই ধরনের শাস্তি রয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা দল যদি বর্ণ, ধর্ম, জাতিগত পরিচয়, লিঙ্গ বা যৌন অভিমুখিতার ভিত্তিতে কারও মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে, তবে ন্যূনতম ১০ ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা বা উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হতে পারে। তদন্ত শেষে উয়েফার সিদ্ধান্তের দিকে এখন গোটা ফুটবল বিশ্ব তাকিয়ে আছে।

-এমিউএম