পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুরকে চীন-ভারতের অভিনন্দন

বাংলাদেশের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছে চীন ও ভারত। উভয় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বলেছেন, তারা বাংলাদেশের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব ও সহযোগিতার সম্পর্ক এগিয়ে নিতে খলিলুর রহমানের সঙ্গে কাজ করতে চান। এই দুই দেশের কূটনীতিকদের এমন দ্রুত প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশ-চীন ও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ ঘনিষ্ঠতার একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। অভিনন্দন বার্তায় চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কমিউনিস্ট পার্টির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ওয়াং ই বলেছেন, দুই দেশের নেতাদের মধ্যে হওয়া গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতাগুলো বাস্তবায়নে এবং চীন-বাংলাদেশ ‘সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারত্বকে’ নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে তিনি খলিলুর রহমানের সঙ্গে কাজ করতে চান।

অন্যদিকে, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর আশা প্রকাশ করে বলেন, পারস্পরিক অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে তিনি খলিলুর রহমানের সঙ্গে একত্রে কাজ করবেন।
খলিলুর রহমান অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা সমস্যাবিষয়ক হাই-রিপ্রেজেন্টেটিভ ছিলেন। এবার টেকনোক্র্যাট কোটায় তাঁকে পররাষ্টমন্ত্রী করেছে বিএনপি।

গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে খলিলুর রহমানের তীব্র সমালোচনা করেছিল বিএনপি। বিশেষ করে রাখাইনের মানবিক করিডোর প্রশ্নে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে তাকে অপসারণের দাবি ওঠে।
তবে, প্রধান উপদেষ্টার যুক্তরাজ্য সফরের সময় লন্ডনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পেছনের কারিগর হিসেবে সামাজিক মাধ্যমে খলিলুর রহমানের নাম এসেছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প সরকার গঠনের পর ড. ইউনূস ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কের জন্য ভরসা করেছেন তার ওপর। মার্কিন শুল্ক আরোপ নিয়ে ঢাকা-ওয়াশিংটন যে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছেছে, তার পেছনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন ড. খলিল। আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি মিয়ানমারের সঙ্গেও যোগাযোগ রক্ষা করেছেন তিনি।

এছাড়া, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা, কাতার সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি বেইজিং কুচকাওয়াজের অনুষ্ঠানে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারিসহ বিশ্বনেতার পাশাপাশি ড. খলিলকে অংশ নিতে দেখা গেছে।

-জোহা