নিজস্ব প্রতিবেদক
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সীমান্ত সমস্যা সমাধানে কৌশলী হতে হবে। সীমান্ত দিয়ে যেন বাংলাদেশের কোনো অপরাধী বা সন্ত্রাসী পালাতে না পারে, সে ব্যাপারে আরও সতর্ক থাকতে হবে।
সোমবার সকালে বিজিবি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর পিলখানায় এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আজকে বিজিবি ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে দেশের সীমান্ত সুরক্ষা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কাজে অনন্য ভূমিকা রাখছে। বিজিবির উন্নয়নে সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তাই জাতীয় স্বার্থকে সমন্বিত রেখে সীমান্তে অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায় অত্যন্ত ‘ন্যানো পন্থায়’ নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পথে বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশি কোনো পণ্য বিদেশে পাচার হতে দেয়া যাবে না। যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী চোরাকারবারি ও মাদক পাচারকারীদের সহায়তা করে, কিংবা সাহায্য করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেয়া যাবে না। অধীনস্থ কমান্ড ও ট্রুপদের কল্যাণে সবসময় খেয়াল রাখার পাশাপাশি সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, একটি বিষয় সবসময় খেয়াল রাখবেন- ডিসিপ্লিন, ট্রেনিং ও ওয়েলফেয়ার- এই তিনটিই কিন্তু পাশাপাশি চলতে হবে। ট্রেনিংয়ের ক্ষেত্রে যেমন কোনো ধরনের কম্প্রোমাইজ করা যাবে না, ডিসিপ্লিনের ক্ষেত্রেও কোনো ধরনের কম্প্রোমাইজ করা যাবে না এবং অধীনস্থদের ওয়েলফেয়ারের দিকেও সবসময় খেয়াল রাখতে হবে। আর প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সীমান্ত সমস্যা সমাধানে অত্যন্ত কৌশলী ও যোগ্যতার পরিচয় দিতে হবে। দেশের স্বার্থ শতভাগ রক্ষা করতে হবে।
সীমান্ত ব্যবহারকারী চোরাকারবারিদের আইনের আওতায় আনতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জেলা প্রশাসনের সঙ্গে নিবির যোগাযোগ রক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। বাংলাদেশ থেকে কোনো অপরাধী, সন্ত্রাসী সীমান্ত দিয়ে যাতে পলায়ন করতে না পারে, সে বিষয়ে আপনাদের কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই নির্বাচন যেন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর হয় সেজন্য যত ধরনের প্রস্তুতির প্রয়োজন, সব প্রস্তুতি নিতে হবে। প্রশিক্ষণ নিতে হবে। নির্বাচন উৎসবমুখর করা আপনাদেরও বড় একটি দায়িত্ব, এটি আপনারা ভালোভাবে পালন করবেন এটাই আমি বিশ্বাস করি। আপনারা জাতিকে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেবেন এটিই আমার আশা।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী কৃতিত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বিজিবি সদস্যদের পদক পরিয়ে দেন। এবছর ১২ জনকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ পদক (বিজিবিএম), ২৪ জনকে রাষ্ট্রপতি বর্ডার গার্ড পদক (পিবিজিএম), ১২ জনকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ পদক-সেবা (বিজিবিএমএস) এবং ২৪ জনকে রাষ্ট্রপতি বর্ডার গার্ড পদক-সেবা (পিবিজিএমএস) সহ সর্বমোট ৭২ জনকে বিভিন্ন পদকে ভূষিত করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি, বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীসহ অন্য কর্মকর্তা ও বিজিবি সদস্যরা।










