পেরুর কংগ্রেস সাবেক বিচারক ও বামপন্থী সাংসদ হোসে মারিয়া বালকাজার-কে অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। তিনি ডানপন্থী নেতা হোসে জেরি-এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন, যিনি সম্প্রতি অপসারণের মুখে পড়েছিলেন। খবর আলজাজিরার।
বালকাজারের পদকাল স্বল্পকালীন হবে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসের সাধারণ নির্বাচনের পর নতুন কার্যনির্বাহী শপথ নেওয়ার পর তার নেতৃত্ব শেষ হবে। ৫৩ দিনের মধ্যে, ১২ এপ্রিল দেশ নতুন রাষ্ট্রপতির জন্য ভোট দিতে যাবে। যদি কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পান, তবে জুনে পুনরায় ভোটগ্রহণ হবে। বালকাজার বামপন্থী “ফ্রি পেরু” দলের সদস্য। তিনি উত্তরাঞ্চলীয় কাজামারকার বাসিন্দা, আইন অধ্যয়ন করেছেন, শিক্ষক ও বিচারক হিসেবেও কাজ করেছেন। তবে বিচারপদের সময়ও তার ক্যারিয়ার বিতর্কময় ছিল। ২০০৪ সালে তিনি সুপ্রিম কোর্টে এক চূড়ান্ত রায় বাতিলের চেষ্টা করেন, যা নিয়ন্ত্রণ সংস্থার শাস্তিমূলক শুনানি ডেকে আনে এবং তার পদ নবায়ন করা হয়নি।
২০২১ সাল থেকে তিনি কংগ্রেসের সদস্য। তিনি অতীতে শিশু বিবাহের পক্ষে বক্তব্য রাখার কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। এছাড়া লাম্বায়েক বার অ্যাসোসিয়েশন থেকে অর্থ অবৈধভাবে ব্যবহার এবং সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাট্রিসিয়া বেনাভিদেস-এর ঘুষ কেলেঙ্কারিতে যুক্ত থাকার অভিযোগও রয়েছে। বালকাজারের নির্বাচন প্রক্রিয়া রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্য দিয়ে হয়েছে। প্রাথমিক ভোটে তিনি ও কেন্দ্র-ডান প্রার্থী মারিয়া দেল কারমেন আলভা নেতৃত্বে ছিলেন। দ্বিতীয় রাউন্ডে বামপন্থী দল “টুগেদার ফর পেরু” ভোট বর্জন করলে বালকাজার ৬০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।
হোসে জেরি, ৩৯ বছর বয়সে পেরুর একজন কম বয়সী রাষ্ট্রপতি ছিলেন। তিনি তার আগে তিনজন ধারাবাহিক রাষ্ট্রপতির মতোই অপসারণের শিকার হয়েছেন। জেরির সময়েও যৌন কেলেঙ্কারি ও চীনা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে গোপন বৈঠক নিয়ে তদন্ত চলছে। এ কেলেঙ্কারি দেশটিতে “চিফাগেট” নামে পরিচিত।
পেরুর রাজনৈতিক অস্থিরতার এই প্রেক্ষাপটে বালকাজারের অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নির্বাচনের উত্তেজনার মধ্যে নতুন অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
-বেলাল








