আফগানিস্তানের তালেবান সরকার নারী ও পরিবারের ওপর নতুন কঠোর আইন জারি করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই আইনের মাধ্যমে স্বামীদের স্ত্রীর ওপর শারীরিক শাস্তি দেওয়া কিছু শর্তে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
আইনের আওতায় স্বামীদের অনুমোদিত মাত্রার ‘শাস্তি’ দেওয়া যাবে, তবে যদি মারধরের ফলে হাড় ভেঙে যায় বা গুরুতর জখম হয়, তখন দায়িত্ব স্বামীকে বহন করতে হবে। অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ১৫ দিনের কারাদণ্ড হতে পারে।
নতুন দণ্ডবিধি ‘দ্য মাহাকুমু জাজাই উসুলনামা’ বা ‘আদালতের ফৌজদারি নিয়মাবলী’ আফগানিস্তানের আদালতে বিতরণ করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী, নারী তার জখম দেখাতে পারে আদালতে, তবে হিজাব পরিধান বাধ্যতামূলক এবং সাথে থাকতে হবে স্বামী বা প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষকে।
আইনটি বিবাহিত নারীদের স্বাধীনতাও সীমিত করেছে। স্বামীর অনুমতি ব্যতীত আত্মীয়ের বাড়িতে গেলে স্ত্রীর সর্বোচ্চ তিন মাস কারাদণ্ড হতে পারে। এছাড়া, আইন সমাজকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করেছে—ধর্মীয় বিদ্বান, অভিজাত, মধ্যশ্রেণি ও নিম্নশ্রেণি-যাতে একই ধরনের অপরাধের জন্য শাস্তি নির্ধারিত হবে সামাজিক অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে।
নতুন আইন নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও নারীর অধিকার সংস্থা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, যা আফগান নারীর নিরাপত্তা ও স্বাধীনতার জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
-বেলাল









