বর্ণবাদী মন্তব্যের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উয়েফা আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মঙ্গলবার রাতে রিয়াল মাদ্রিদ ও বেনফিকা–এর চ্যাম্পিয়নস লিগ প্লে–অফ ম্যাচে এই বিতর্কের সূচনা হয়। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন রিয়ালের ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবং বেনফিকার আর্জেন্টাইন তরুণ ফুটবলার জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি।
অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত দুজনের সঙ্গেই কথা বলেছেন বেনফিকা কোচ হোসে মরিনহো। তবে কারও বক্তব্যেই পুরোপুরি আশ্বস্ত নন তিনি। বরং তার মতে, গোল করার পর স্টেডিয়ামে উপস্থিত প্রায় ৬০ হাজার দর্শকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়া ভিনিসিয়ুসের ঠিক হয়নি।
বেনফিকার বিপক্ষে গোল করার পর কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে কোমর দুলিয়ে নেচে উদযাপন করেন ভিনিসিয়ুস। ওই উদযাপনের পরই তাকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। কার্ড দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। এরপরই বর্ণবাদের অভিযোগের ঘটনা সামনে আসে। নিয়ম অনুযায়ী প্রায় ১১ মিনিট খেলা বন্ধ থাকে।
টেলিভিশন ফুটেজে দেখা যায়, জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে কিছু বলতে দেখা যায় প্রেস্তিয়ান্নিকে। সেই কথাতেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ভিনিসিয়ুস ও তার সতীর্থরা। ম্যাচ শেষে রিয়াল তারকা কিলিয়ান এমবাপে দাবি করেন, প্রেস্তিয়ান্নি জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে ভিনিসিয়ুসকে পাঁচবার ‘বানর’ বলেছেন।
ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে মরিনহো বলেন, “আমি দুজনের সঙ্গেই কথা বলেছি। দুজন ভিন্ন কথা বলছে। আমি বলছি না যে প্রেস্তিয়ান্নিকে শতভাগ সমর্থন করছি, আবার এটাও বলতে পারছি না যে ভিনিসিয়ুস আমাকে পুরো সত্য বলেছে। আমি নিশ্চিত নই।”
তিনি আরও যোগ করেন, “গোল পর্যন্ত ম্যাচটি দারুণ হচ্ছিল। বেনফিকা ভালো শুরু করেছিল, রিয়ালও ছিল শক্তিশালী। ভিনিসিয়ুস যে গোলটি করেছে, সেটা কেবল সে আর এমবাপে করতে পারে। কিন্তু গোলের পর তার উচিত ছিল সতীর্থদের দিকে ছুটে যাওয়া। ৬০ হাজার দর্শকের সঙ্গে ঝামেলায় জড়ানোর প্রয়োজন ছিল না।”
ম্যাচের শেষ দিকে লাল কার্ড দেখেন মরিনহো। ফলে পরের ম্যাচে রিয়ালের মাঠে তিনি ডাগআউটে থাকতে পারবেন না। এ বিষয়ে তার মন্তব্য, “আমাকে বের করে দেওয়া হয়েছে কারণ আমি বুঝি। রেফারির কাছে একটি কাগজ ছিল, যেখানে লেখা ছিল চুয়ামেনি, কাররেরাস ও হুইসেনকে হলুদ কার্ড দেওয়া যাবে না। সে চুয়ামেনি বা কাররেরাসকে কার্ড দেখায়নি। আমি প্রায় ১,৪০০ ম্যাচ ডাগআউটে কাটিয়েছি আমি জানি এসব কীভাবে হয়। সে জানত কাকে কার্ড দেখাতে হবে, কাকে নয়। আমরা সবাই জানি, সবকিছু কীভাবে চলে।”
-এমইউএম










