লস অ্যাঞ্জেলেসে চলমান এক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় সাক্ষ্য দিয়ে মার্ক জাকারবার্গ অস্বীকার করেছেন যে ইনস্টাগ্রাম-এর মালিকানাধীন মেটা প্ল্যাটফর্মস শিশু-কিশোরদের লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস সুপিরিয়র কোর্টে তিনি জুরিদের সামনে বলেন, ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের প্ল্যাটফর্মে অনুমতি দেওয়া হয় না।
মামলাটি করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার এক নারী, যিনি অভিযোগ করেছেন শৈশবে ইনস্টাগ্রাম ও YouTube ব্যবহার করতে গিয়ে তিনি মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। তার দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আসক্তিমূলক নকশা তার বিষণ্নতা ও আত্মহত্যাপ্রবণ চিন্তাকে উসকে দেয়। তিনি ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মার্ক ল্যানিয়ার আদালতে মেটার অভ্যন্তরীণ নথি উপস্থাপন করেন। ২০১৮ সালের একটি ইনস্টাগ্রাম প্রেজেন্টেশনে উল্লেখ ছিল “কিশোরদের মধ্যে বড় সাফল্য পেতে হলে টুইন (১৩ বছরের নিচের শিশু) বয়স থেকেই তাদের আনতে হবে।” এ নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে জাকারবার্গ বলেন, তার বক্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তিনি জানান, শিশুদের জন্য আলাদা নিরাপদ সংস্করণ তৈরির আলোচনা হয়েছিল, তবে তা বাস্তবায়ন করা হয়নি।
আদালতে আরেক ইমেইলে দেখা যায়, মেটার সাবেক গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স ভাইস প্রেসিডেন্ট নিক ক্লেগ শীর্ষ কর্মকর্তাদের লিখেছিলেন বয়সসীমা কার্যত প্রয়োগ করা কঠিন এবং ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের নীতিমালার পার্থক্য কোম্পানির অবস্থানকে দুর্বল করে। জাকারবার্গ জবাবে বলেন, ব্যবহারকারীর বয়স যাচাই করা অ্যাপ ডেভেলপারদের জন্য কঠিন এবং এ দায়িত্ব ডিভাইস নির্মাতাদেরও থাকা উচিত।
বাদীপক্ষ আরও অভিযোগ করে, ইনস্টাগ্রামে ব্যবহারকারীদের স্ক্রিনটাইম বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। ২০১৪ ও ২০১৫ সালের ইমেইলে সময় বাড়ানোর পরিকল্পনার উল্লেখ পাওয়া যায়। তবে জাকারবার্গ বলেন, বর্তমানে কর্মীদের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয় ব্যবহারকারীর ভালো অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করার ভিত্তিতে, সময় বাড়ানো সরাসরি লক্ষ্য নয়। আদালতে উপস্থাপিত ২০২২ সালের একটি নথিতে ২০২৬ সালের মধ্যে দৈনিক গড় ব্যবহার সময় ৪৬ মিনিটে নেওয়ার “মাইলস্টোন” উল্লেখ ছিল, যা তিনি “গাট চেক” বা অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
এই মামলা যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে চলমান বৃহত্তর আইনি লড়াইয়ের অংশ। বিভিন্ন পরিবার, স্কুল জেলা ও অঙ্গরাজ্য অভিযোগ করেছে এসব প্ল্যাটফর্ম কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য সংকটকে তীব্র করেছে। ইতোমধ্যে স্ন্যাপ ও টিকটক মামলাটি নিষ্পত্তি করেছে বলে জানা গেছে।
মেটা ও গুগল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তারা ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় বিভিন্ন ফিচার যুক্ত করেছে। তবে এই মামলার রায় বিগ টেক কোম্পানিগুলোর দীর্ঘদিনের আইনি সুরক্ষায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: রয়টার্স
সাবরিনা রিমি/










