স্বাধীনতার পর চট্টগ্রাম থেকে প্রথম অর্থমন্ত্রী হলেন আমীর খসরু

স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ দশকের ইতিহাসে এই প্রথম চট্টগ্রাম থেকে কোনো পূর্ণাঙ্গ অর্থমন্ত্রী পেল বাংলাদেশ। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নবগঠিত মন্ত্রিসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বন্দরনগরীর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত জমকালো শপথ অনুষ্ঠানে ৪৯ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে অন্যতম হিসেবে তিনি এই গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করেন।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন অর্থমন্ত্রী হওয়ার খবর বন্দরনগরী চট্টগ্রামে পৌঁছামাত্রই সেখানে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে মিষ্টি বিতরণ এবং আনন্দ মিছিল বের করেন। স্থানীয় রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী মহলের মতে, এই নিয়োগের মাধ্যমে চট্টগ্রাম তার ‘বাণিজ্যিক রাজধানী’র প্রকৃত মর্যাদা ফিরে পাবে। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান আশা প্রকাশ করেন যে, চট্টগ্রামের থমকে থাকা অবকাঠামোগত উন্নয়ন এখন দ্রুত বাস্তবায়িত হবে। অন্যদিকে, নগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল আলম মন্তব্য করেন, দলের দুঃসময়ে ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে কাজ করার যে ত্যাগ আমীর খসরু দেখিয়েছেন, তারেক রহমান তাকে যথাযথ মূল্যায়ন করেছেন।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রামের এক অত্যন্ত বনেদি রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান হিসেবে পরিচিত। তার বাবা প্রয়াত মাহমুদুন্নবী চৌধুরী পঞ্চাশের দশকে পূর্ব পাকিস্তান আইন পরিষদের সদস্য ও মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পারিবারিক এই ঐতিহ্যের পাশাপাশি আমীর খসরুর শিক্ষাজীবনও অত্যন্ত সমৃদ্ধ; তিনি লন্ডন থেকে হিসাববিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন। নব্বইয়ের দশকে চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি হিসেবে প্রথম পাদপ্রদীপে আসা এই রাজনীতিবিদ ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। উল্লেখ্য যে, এর আগেও বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে তিনি সফলভাবে বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

দেশের অর্থনীতি বর্তমানে এক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একজন দক্ষ একাউন্ট্যান্ট ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে আমীর খসরুর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বৈদেশিক বাণিজ্য সচল করতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়ন এবং শিল্পায়নে তার বিশেষ নজর থাকবে—এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের।

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে ১৪টিতেই বিএনপি জয়লাভ করেছে। এই নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর থেকেই গুঞ্জন ছিল যে, চট্টগ্রামের কাউকেই সরকারের শীর্ষ কোনো দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হবে। সেই গুঞ্জন আজ আমীর খসরুর শপথের মাধ্যমে বাস্তবে রূপ নিল।

-লামিয়া আক্তার