নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
পবিত্র রমজান কড়া নাড়ছে। ইফতারের অপরিহার্য অনুষঙ্গ খেজুরের পর্যাপ্ত মজুদ এবং সরকারি শুল্কছাড় থাকার পরও খুচরা বাজারে এর কোনো সুফল মিলছে না। উল্টো গত দুই সপ্তাহে রাজধানীর বাজারগুলোতে জাত ও মানভেদে খেজুরের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
শুল্কছাড় বনাম বাজার বাস্তবতা
রমজান উপলক্ষে খেজুরের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) গত ২৪ ডিসেম্বর আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ এবং অগ্রিম আয়কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করেছে। কিন্তু অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় অজুহাতের কারণে এই সুবিধা ভোক্তাদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না।
খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, তাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। অন্যদিকে, আমদানিকারকরা চট্টগ্রাম বন্দরে শ্রমিক ধর্মঘটের কারণে পণ্য খালাসে বিলম্ব ও সরবরাহ সংকটকে দায়ী করছেন। বাদামতলীর আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মোল্লা ফ্রেশ ফোর্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আল-আমিন বলেন, “বন্দরের অস্থিরতায় সময়মতো পণ্য খালাস না হওয়ায় বাজারে ১৫ দিনের একটি গ্যাপ তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে দামে।”
বাজারের চিত্র: কারওয়ান বাজার থেকে সুপারশপ
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দাবাস ও বরই খেজুর ৪৫০-৫৫০ টাকা, জাহিদি ২৫০-২৬০, আজওয়া ১১০০-১৪০০ এবং মরিয়ম ১০০০-১২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে খুচরা বাজারগুলোতে (যেমন জোয়ারসাহারা) কেজিতে ২০ থেকে ১০০ টাকা বেশি রাখা হচ্ছে।
সুপারশপগুলোতে দাম আরও চড়া। সেখানে মরিয়ম ১৪০০ টাকা, মেডজুল জাম্বু ২৪৫০ টাকা এবং আজওয়া ১৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ভোক্তাদের ক্ষোভ ও টিসিবির উদ্যোগ
ভোক্তাদের অভিযোগ, সরকার শুল্ক কমালেও তার সুফল পকেটে ভরছেন ব্যবসায়ীরা। কলেজ শিক্ষক মুনিরা খাতুন বলেন, “প্রতিবছরই সরকার ছাড় দেয়, কিন্তু আমরা সুফল পাই না। এখনই বাজারে তদারকি বাড়ানো দরকার।”
এদিকে, নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য গতকাল মঙ্গলবার থেকে টিসিবি সারা দেশে ৪৫০টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে ৩২০ টাকা কেজি দরে খেজুর বিক্রি শুরু করেছে। আগামী ১২ মার্চ পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে।
শুধু খেজুর নয়, রমজান ঘিরে লেবু ও কলার দামও আকাশচুম্বী। বড় সাইজের লেবুর হালি ১২০-১৫০ টাকা এবং সবরি কলার ডজন ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।










