টালিপাড়ায় এখন আলোচনার কেন্দ্রে মহালয়া খ্যাত অভিনেতা শুভাশিস মুখোপাধ্যায়। ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে নতুন সিনেমা—সব মিলিয়ে তাঁকে ঘিরে কৌতূহলের শেষ নেই। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের এক গোপন অধ্যায় নিয়ে অকপটে কথা বলেছেন শুভাশিস। হাঁটুর বয়সি এক তরুণীর প্রেমে পড়েছেন—এমন স্বীকারোক্তি মুহূর্তেই গসিপে রূপ নেয়। নিরিবিলি সময় কাটাতে সমুদ্রভ্রমণ তাঁর পছন্দ বলেও জানান অভিনেতা।
সিনেমায় ‘ফণীবাবু’ চরিত্রে দেখা যাবে শুভাশিস মুখোপাধ্যায়কে। তাঁর বিপরীতে তরুণী রোশনি ভট্টাচার্য, যিনি ‘তরুণী ভার্যা’ চরিত্রে অভিনয় করছেন। ছবির রোমান্টিক দৃশ্য নিয়ে শুভাশিস রসিকতা করে বলেন, এসব ভাবতেই তাঁর গায়ে কাঁটা দেয়। গানের দৃশ্যেও থাকছে তাঁদের একাধিক রোমান্টিক মুহূর্ত। ছবিতে আরও অভিনয় করছেন খরাজ মুখোপাধ্যায়, কাঞ্চন মল্লিকসহ টালিপাড়ার পরিচিত মুখেরা।
এই আবহেই শুভাশিসকে ঘিরে মুখ খুললেন কৌতুক অভিনেতা ও পরিচালক রাজু মজুমদার। তিনি ঘোষণা করেছেন, শুভাশিসকে নিয়ে তৈরি হচ্ছে নতুন সিনেমা ‘ফণীবাবু ভাইরাল’। এই ছবির মাধ্যমেই পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছেন রাজু। তাঁর কথায়, করোনাকালে বাড়িতে বসে লেখালিখির সময়ই গল্পটির জন্ম, আর ‘ফণীবাবু’ চরিত্রটি লিখেছেন শুভাশিসকে ভেবেই।
‘ফণীবাবু ভাইরাল’-এর গল্প আবর্তিত হয়েছে এক বৃদ্ধ মানুষের হঠাৎ সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে। সেই ঘটনার পর তাঁর চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা কাণ্ডকারখানাই ছবির মূল আকর্ষণ। রাজু মজুমদারের লক্ষ্য, ‘যমালয়ে জীবন্ত মানুষ’ কিংবা ‘আশিতে আসিও না’র মতো ক্লাসিক কৌতুক ধারাকে আধুনিক প্রেক্ষাপটে ফিরিয়ে আনা।
শুভাশিসের মতে, এই ছবির সংলাপ ও পরিস্থিতি দর্শকের খুব চেনা লাগবে। তিনি বলেন, প্রতিদিনের জীবনের টানাপোড়েনের মধ্যেই এই সিনেমা দর্শকের কাছে তাজা অক্সিজেনের মতো কাজ করবে। নতুন পরিচালক হিসেবে রাজুর টিকে থাকা নিয়েও তিনি আশাবাদী। রাজুর অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা কাজের সময় তাঁকে মুগ্ধ করেছে বলেই জানান অভিনেতা।
পর্দায় সামাজিক মাধ্যমে আসক্ত ‘ফণীবাবু’, কিন্তু বাস্তব জীবনে শুভাশিস সোশ্যাল মিডিয়া একেবারেই এড়িয়ে চলেন। তাঁর ভাষায়, সারাক্ষণ খারাপ খবর দেখে মন খারাপ হয়। একবার তাঁকে সামাজিক মাধ্যমে ‘মৃত’ পর্যন্ত ঘোষণা করা হয়েছিল—সেই অভিজ্ঞতা আজও ভুলতে পারেননি।
বিথী রানী মণ্ডল/










