চব্বিশের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া আজ থেকে শুরু হচ্ছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনসহ শীর্ষ সাত নেতার বিরুদ্ধে আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ কার্যক্রম শুরু হবে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই ঐতিহাসিক বিচার কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই মামলার অভিযুক্ত সাতজন আসামির কেউই বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে নেই। আইন অনুযায়ী, তাদের পলাতক দেখিয়েই অনুপস্থিতিতে বিচার কার্যক্রম পরিচালনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন আদালত।
অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। এ ছাড়াও সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতসহ যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনানকে এই মামলায় পলাতক আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মঙ্গলবারের (১৭ ফেব্রুয়ারি) শুনানিতে প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে ‘ওপেনিং স্টেটমেন্ট’ বা সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করা হবে। এরপর প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে মামলার আনুষ্ঠানিক সাক্ষ্যদান পর্ব শুরু হতে পারে। আসামিদের পক্ষে আইনি লড়াই করার জন্য এর আগেই রাষ্ট্রনিযুক্ত (State Defense) আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জমা দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়েছে যে, অভিযুক্তরা জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে সমন্বিতভাবে নির্দেশ ও প্ররোচনা প্রদান করেছেন। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, আসামিরা দলীয় নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে প্রতিরোধের নামে একাধিক গোপন বৈঠকে সশস্ত্র হামলার নীল নকশা তৈরি করেছিলেন।
বিশেষ করে মোহাম্মদ আলী আরাফাতসহ অন্য অভিযুক্তরা আন্দোলনের তথ্য প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করতে এবং নির্মম দমন-পীড়ন চালাতে নেপথ্যে থেকে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। তাদের এসব উসকানিমূলক বক্তব্য ও পরিকল্পিত সহিংসতার ফলেই দেশজুড়ে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন অনুযায়ী সুনির্দিষ্টভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য।
গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর আদালত এই সাতজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। এরপর গত ২২ জানুয়ারি তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর চূড়ান্ত আদেশ দেওয়া হয়।
–লামিয়া আক্তার










