ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো লন্ডভন্ড

রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ তামান বন্দরে শনিবার দিবাগত রাতে ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। এই হামলায় বন্দরের জ্বালানি তেলের সংরক্ষণাগার, গুদাম ও টার্মিনালের একটি বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

ক্রাসনোদারের গভর্নর ভেনিয়ামিন কন্দ্রাৎইয়েভ টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, রাতভর চলা এই হামলায় বন্দর অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত দু’জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তামান বন্দরের পাশাপাশি কৃষ্ণ সাগর উপকূলের পর্যটন নগরী সোচি এবং আনাপার ইউরোভকা গ্রামেও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। তবে ওই এলাকাগুলোতে বড় ধরনের কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য এখনো জানায়নি প্রশাসন। খবর রয়টার্সের।

রোববার ইউক্রেনের সেনাপ্রধানের দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তামান বন্দরে হামলার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিতে তাদের জ্বালানি ও সামরিক সরবরাহ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত থাকবে। এমনকি ভবিষ্যতে রাশিয়ার বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থাকেও লক্ষ্যবস্তু করার কঠোর ইঙ্গিত দিয়েছে কিয়েভ।

বিশ্লেষকদের মতে, তামান বন্দর কৃষ্ণ সাগর অঞ্চলে রাশিয়ার জ্বালানি ও রপ্তানি কার্যক্রমের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। এই অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানি এবং যুদ্ধক্ষেত্রে সামরিক রসদ সরবরাহ ব্যবস্থায় সাময়িক কিন্তু বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উভয় পক্ষই এখন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে একে অপরের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার এই প্রবণতা দুই দেশের সংঘাতকে একটি নতুন এবং আরও ভয়াবহ মাত্রায় নিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সমর বিশেষজ্ঞরা।

-এম. এইচ. মামুন