নিওওয়াইজ ডেটায় ধরা পড়ল নক্ষত্রের নীরব মৃত্যুর রহস্য

মহাকাশে বিশাল নক্ষত্রের মৃত্যু সাধারণত এক মহাবিস্ফোরণের মাধ্যমে ঘটে যাকে বলা হয় সুপারনোভা। কিন্তু প্রায় ২৫ লাখ আলোকবর্ষ দূরের অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি–এ অবস্থিত একটি নক্ষত্র সেই চিরচেনা বিস্ফোরণের পথ অনুসরণ করেনি। বরং নিঃশব্দে মিলিয়ে গিয়ে জন্ম দিয়েছে এক কৃষ্ণগহ্বরের।

মৃতপ্রায় নক্ষত্রটির নাম M31-2014-DS1। এটি পর্যবেক্ষণে ধরা পড়ে নাসার ইনফ্রারেড মহাকাশ দূরবীন মিশন নিওওয়াইজ–এর আর্কাইভাল ডেটায়। ২০০৫ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন মহাকাশ ও স্থলভিত্তিক মানমন্দিরের তথ্য বিশ্লেষণ করে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এই বিরল ঘটনার চিত্র পুনর্গঠন করেন।

গবেষণায় দেখা যায়, ২০১৪ সালে নক্ষত্রটি হঠাৎ ইনফ্রারেড আলোতে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। কিন্তু ২০২৩ সালের মধ্যে দৃশ্যমান আলোর ক্ষেত্রে এর উজ্জ্বলতা ১০ হাজার গুণেরও বেশি কমে যায়। বিজ্ঞানীদের মতে, নক্ষত্রটির অভ্যন্তরীণ জ্বালানি ফুরিয়ে গেলে এর কেন্দ্রভাগ ধসে পড়ে। সাধারণত এ ধরনের ধস থেকে উৎপন্ন শকওয়েভ নক্ষত্রের বাইরের স্তরগুলোকে বিস্ফোরণের মাধ্যমে ছিটকে দেয়। কিন্তু এই ক্ষেত্রে শকওয়েভ ছিল দুর্বল। ফলে অধিকাংশ পদার্থ নিজস্ব মহাকর্ষে ভেতরের দিকে ধসে পড়ে এবং একটি কৃষ্ণগহ্বরে পরিণত হয়।

ইনফ্রারেডে যে উজ্জ্বলতা ধরা পড়েছিল, তা মূলত নক্ষত্রের বাইরের স্তর থেকে নির্গত গরম গ্যাস ও ধূলিকণার মেঘের কারণে। অর্থাৎ এটি ছিল এক ধরনের “ব্যর্থ সুপারনোভা” যেখানে প্রচলিত বিস্ফোরণ ঘটেনি, বরং নক্ষত্রটি নিঃশব্দে অদৃশ্য হয়েছে।

গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে বৈজ্ঞানিক সাময়িকী Science–এ। গবেষকরা ইতোমধ্যে আরেকটি বিশাল নক্ষত্র চিহ্নিত করেছেন, যার পরিণতিও একই রকম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই আবিষ্কার ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, কৃষ্ণগহ্বরের জন্ম সবসময় আতশবাজির মতো মহাবিস্ফোরণে নয় কখনও কখনও তা ঘটে নিঃশব্দ, ধোঁয়াটে এক অন্তর্ধানের মধ্য দিয়ে।

সূত্র: নাসা

সাবরিনা রিমি/