বিশ্বজুড়ে ইরানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

ইরানের বর্তমান ইসলামিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী এক নজিরবিহীন গণবিক্ষোভ শুরু হয়েছে। নির্বাসিত শেষ শাহ-এর ছেলে রেজা পাহলভির ডাকে শনিবার জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইসরায়েলসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের রাজপথ ‘গ্লোবাল ডে অব অ্যাকশন’-এর মিছিলে উত্তাল হয়ে ওঠে। মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের ফাঁকে পাহলভি দাবি করেছেন, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা এখন পতনের দ্বারপ্রান্তে।

জার্মানির মিউনিখে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার মানুষের এক বিশাল সমাবেশে ভাষণ দেন রেজা পাহলভি। সেখানে তিনি তেহরানের সাম্প্রতিক দমনপীড়নের তীব্র নিন্দা জানান। তবে সবচেয়ে বড় জমায়েতটি দেখা গেছে কানাডার টরন্টোতে, যেখানে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। বিক্ষোভকারীরা বিবিসি পারসিয়ানকে জানান, ইরানের ভেতরে থাকা তাদের পরিবার ও বন্ধুদের কণ্ঠস্বর বিশ্বদরবারে পৌঁছে দিতেই তারা এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন।

লস অ্যাঞ্জেলেসে বিশাল সমাবেশে বক্তব্য রাখেন পাহলভির মেয়ে নূর পাহলভি। তিনি অত্যন্ত আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “ইরানিরা নিজেদের মুক্ত করার এত কাছাকাছি এর আগে কখনো আসেনি।”

গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের বাজারগুলোতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবাদে শুরু হওয়া ছোট ছোট বিক্ষোভ এখন দেশব্যাপী গণবিদ্রোহে রূপ নিয়েছে। ইরানি রিয়ালের নজিরবিহীন দরপতন সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, বিক্ষোভ দমনে সরকারি বাহিনীর অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রেজা পাহলভি রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরানের সরকার বর্তমানে অত্যন্ত দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক চাপ বা আক্রমণ তাদের পতনকে ত্বরান্বিত করবে। তিনি সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এখনই সময় জনগণের পাশে দাঁড়ানোর। হস্তক্ষেপই হতে পারে ইরানিদের জীবন বাঁচানোর একমাত্র পথ।”

উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর থেকে রেজা পাহলভি বিদেশে নির্বাসিত জীবন যাপন করছেন। তবে বর্তমান সংকটে তাকে ঘিরেই আবার নতুন সমীকরণের স্বপ্ন দেখছে প্রবাসীরা।

-এম. এইচ. মামুন