সংযম ও আত্মনিয়ন্ত্রণের বার্তা নিয়ে পবিত্র রমজান মাস সমাগত হলেও নিত্যপণ্যের বাজারে তার কোনো প্রতিফলন নেই। পর্যাপ্ত আমদানি ও উৎপাদন থাকার পরও রোজার আগমুহূর্তে ছোলা, ব্রয়লার মুরগি, লেবু ও ইফতারসামগ্রীর দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে ছোলার দাম কেজিতে ১০ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।
অস্থির ছোলা ও মুরগির বাজার
মাস দুয়েক আগে ৮০ টাকায় নামা ছোলার দাম নির্বাচনের পরপরই বেড়ে খুচরা বাজারে ৯০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরে প্রায় ২৬ কোটি ডলারের ছোলা আমদানি হয়েছে, যা চাহিদাল তুলনায় পর্যাপ্ত।
অন্যদিকে, ব্রয়লার মুরগির বাজারও উত্তপ্ত। দুই সপ্তাহ আগেও ১৮০ টাকার নিচে থাকা ব্রয়লার এখন বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে। সোনালি মুরগির দাম বেড়ে হয়েছে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা।
ফলের বাজারে আগুন, স্বস্তি খেজুরে
ইফতারের অপরিহার্য অনুষঙ্গ লেবুর হালি (মাঝারি আকার) বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। মালটা ও আপেলের কেজি ৩০০ টাকার ওপরে। তবে ব্যতিক্রম চিত্র দেখা গেছে খেজুরের বাজারে। গত বছরের তুলনায় এবার মানভেদে খেজুরের দাম কেজিতে ৩০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। জায়েদি খেজুর ২৫০-৩০০ টাকা এবং মরিয়ম বা আজওয়া ৬০০-১০০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
সবজির মিশ্র চিত্র
কোনো কারণ ছাড়াই বেগুনের দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৮০-৯০ টাকা এবং শসা ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ফলন ভালো হওয়ায় আলু (২০ টাকা) এবং পেঁয়াজের (৫৫-৬০ টাকা) দাম কিছুটা কমেছে।
ভোক্তাদের অভিযোগ ও সরকারের পদক্ষেপ
ভোক্তাদের অভিযোগ, নির্বাচনের অজুহাতে বাজার তদারকি ঢিলেঢালা হওয়ার সুযোগে ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মুনাফা লুটছেন। ক্যাব সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, “প্রতি বছর রমজান এলেই ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাতে দাম বাড়ান। নতুন সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা, তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।”
এদিকে সরকার রমজান উপলক্ষে ঢাকা ও সিটি করপোরেশন এলাকায় ২৫টি স্থানে সুলভ মূল্যে দুধ, ডিম, গরুর মাংস (৬৫০ টাকা) ও ব্রয়লার মুরগি (২৪৫ টাকা) বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়া টিসিবিও সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য বিক্রি কার্যক্রম পরিচালনা করবে।










