ঋণের বোঝা নিয়ে সংসদে যাচ্ছেন ১১ সংসদ সদস্য

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী ১১ সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের ঋণখেলাপির অভিযোগ উঠেছে। উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে তারা নির্বাচনে লড়লেও, আইনি বাধ্যবাধকতা ও স্থগিতাদেশের মেয়াদ শেষ হলে যে কোনো সময় তাদের সংসদ সদস্য পদ বাতিলের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের দুটি আসনের ফল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি নির্বাচন কমিশন।
খেলাপি ঋণের বোঝা নিয়ে জয়ী ১১ সংসদ সদস্যের তালিকা:
ক্র. নং
নাম
নির্বাচনী আসন
বর্তমান অবস্থা
সারোয়ার আলমগীর
চট্টগ্রাম-২
২০১ কোটি টাকা ঋণখেলাপি; আদালত চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না করা পর্যন্ত ফল স্থগিত। শপথের আমন্ত্রণ পাননি।
মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী
চট্টগ্রাম-৪
ব্যাংক এশিয়া ও ট্রাস্ট ব্যাংকে খেলাপি ঋণ; ফল স্থগিত। শপথের আমন্ত্রণ পাননি।
গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী
চট্টগ্রাম-৬
আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত খেলাপি দেখানোর ওপর স্থগিতাদেশ রয়েছে।
মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া
কুমিল্লা-১০
ব্যাংক এশিয়ার ঋণখেলাপি; আদালতের আদেশে প্রতীক পেয়ে জয়ী হয়েছেন।
মো. আবুল কালাম
কুমিল্লা-৯
আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিতাদেশ রয়েছে।
কাজী রফিকুল ইসলাম
বগুড়া-১
তিনটি স্থগিতাদেশের মধ্যে একটির মেয়াদ শেষ, বাকি দুটির মেয়াদ এপ্রিল পর্যন্ত।
গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ
বগুড়া-৫
চারটি মামলা রয়েছে; দুটির মেয়াদ ফেব্রুয়ারি ও মার্চে শেষ হবে।
মো. লুৎফর রহমান
টাঙ্গাইল-৪
আগামী ২৪ মে পর্যন্ত স্থগিতাদেশের মেয়াদ রয়েছে।
মোহাম্মদ জাকির হোসেন
ময়মনসিংহ-৫
আগামী ৬ জুন পর্যন্ত স্থগিতাদেশের মেয়াদ রয়েছে।
১০
মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী
মৌলভীবাজার-৪
আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিতাদেশের মেয়াদ রয়েছে।
১১
খন্দকার আবদুল মুক্তাদির
সিলেট-১
মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সিআইবিতে খেলাপি দেখানোর ওপর স্থগিতাদেশ রয়েছে।
ঋণখেলাপিদের ছাড় দেওয়ার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, “আমরা ঋণখেলাপি যাদের ছাড় দিয়েছি, মনে কষ্ট নিয়ে দিয়েছি। শুধু আইন তাদের পারমিট করেছে বিধায়।” মূলত আদালতের ‘স্টে অর্ডার’ বা স্থগিতাদেশের কারণে ইসি তাদের আটকাতে ব্যর্থ হয়েছে।
সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার প্রশ্ন তুলেছেন, যারা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার যোগ্য নয়, আদালত কি তাদের বিজয়ী হওয়ার সুযোগ করে দিল? টিআইবি নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বিষয়টিকে রাষ্ট্র সংস্কারের অন্তরায় হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, ক্ষুদ্র ঋণগ্রহীতারা জেলে যান, আর প্রভাবশালীরা স্থগিতাদেশ নিয়ে এমপি হন-এটি প্রত্যাশিত নয়।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, হলফনামায় তথ্য গোপন করলে বা ঋণখেলাপি প্রমাণিত হলে ইসি যেকোনো সময় পদ বাতিল করতে পারে। তবে স্থগিতাদেশের মেয়াদ থাকাকালীন যদি সংশ্লিষ্ট এমপিরা ঋণ পুনঃতপশিল বা শোধ করে দেন, তবেই তারা এই ঝুঁকি থেকে মুক্ত হতে পারবেন।
লামিয়া আক্তার