ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে টেলিফোনে অভিনন্দন জানিয়েছেন কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ড. মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ বিন সালেহ আল-খুলাইফি।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) এই ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়। ফোনালাপে ড. আল-খুলাইফি নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় তারেক রহমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান এবং দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
ড. আল-খুলাইফি তার ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে এক পোস্টের মাধ্যমে এই ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি লিখেছেন: “আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলেছি। সংসদ নির্বাচনে দলের অভাবনীয় সাফল্যের জন্য তাকে আমি অভিনন্দন জানাই। কাতার ও বাংলাদেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে গঠনমূলক সহযোগিতার বন্ধন আরও জোরদার করার ব্যাপারে আমরা আশাবাদী, যা আমাদের দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের পারস্পরিক স্বার্থকে ত্বরান্বিত করবে।”
কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নতুন সরকার গঠনের আগেই কাতারের মতো একটি প্রভাবশালী মধ্যপ্রাচ্যের দেশের পক্ষ থেকে এই অভিনন্দন বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশের একটি বিশাল সংখ্যক প্রবাসী শ্রমিক কাতারে কর্মরত। এছাড়া জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে কাতার বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উৎস। তারেক রহমানের সঙ্গে এই আলাপন ভবিষ্যতে জনশক্তি রপ্তানি ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর আগে কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান বিন জাসিম আল থানিও তারেক রহমানকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন। ধারাবাহিকভাবে কাতারের এই সক্রিয় কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া নতুন সরকারের প্রতি দোহার শক্তিশালী সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ।
তারেক রহমান কাতারের এই অভিনন্দনকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) শপথ গ্রহণের মাধ্যমে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে বিশেষ করে কাতার, সৌদি আরব ও ইউএই-র সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।