বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আজিজ খান এবং তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব ও সম্পদ জব্দ করেছে বাংলাদেশ। অর্থ পাচারের অভিযোগে বাংলাদেশে তদন্ত চলমান থাকায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সিঙ্গাপুরের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘দ্য স্ট্রেইটস টাইমস’। একই সঙ্গে অপর ধনকুবের এস আলম ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির আদেশ দিয়েছেন বাংলাদেশের আদালত।
সিঙ্গাপুরের নাগরিকত্ব গ্রহণ করা আজিজ খান তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। স্ট্রেইটস টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমাদের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ সরকারকে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করছে। আমরা জানি শেষ পর্যন্ত নির্দোষ প্রমাণিত হব।” তিনি আরও দাবি করেন, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে তার বা তার কোম্পানির বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট মামলা বা অভিযোগ গঠন করা হয়নি।
উল্লেখ্য, আজিজ খানের ভাই ও সাবেক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী ফারুক খান ২০২৪ সালে একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। আজিজ খান বর্তমানে ১.১ বিলিয়ন ডলার সম্পদ নিয়ে ফোর্বসের ২০২৫ সালের তালিকায় সিঙ্গাপুরের ৪৯তম ধনী ব্যক্তি।
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে সামিট ও এস আলম গ্রুপের ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বর্তমান প্রশাসন। বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বিএসইসি ও এনবিআর আজিজ খানের ব্যবসায়িক নথিপত্র তলব করেছে।
অন্যদিকে, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগে বড় ধরনের তদন্ত চলছে। সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় তাদের মালিকানাধীন বিলাসবহুল হোটেল ও বাণিজ্যিক সম্পদের তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আদালত ইতিমধ্যে দুদককে নির্দেশ দিয়েছে যেন সাইফুল আলম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করা হয়।
আজিজ খানের সামিট পাওয়ার ইন্টারন্যাশনাল বর্তমানে বাংলাদেশের বৃহত্তম বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। ১৯৯৭ সালে প্রথম বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে এই খাতে তাদের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে তারা ১১টি বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনা করছে। অন্যদিকে, এস আলমের খাদ্য, জ্বালানি ও ব্যাংকিং খাতে বিশাল সাম্রাজ্য থাকলেও বিগত সরকারের সাথে ঘনিষ্ঠতার কারণে তারা এখন ব্যাপক আইনি ও আর্থিক চাপের মুখে।
তদন্তের মুখে আজিজ খানের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পদবি ও সম্মাননা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তিনি ইউনিসেফ ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিলের সদস্য এবং ২০১৬ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে ফিনল্যান্ডের অনারারি কনসাল জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। চলমান এই তদন্ত ও সম্পদ জব্দের ঘটনা দুই দেশের ব্যবসায়িক ও কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
-এম এইচ মামুন










