লেবানন ও সিরিয়া সীমান্তে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ভোরের দিকে চালানো এই হামলায় কমপক্ষে চারজন নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে লেবাননের জনস্বাস্থ্য বিষয়ক মন্ত্রণালয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থার তথ্যমতে, নিহতদের মধ্যে খালেদ মোহাম্মদ আল-আহমাদ নামে এক সিরীয় নাগরিক রয়েছেন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। তাদের দাবি, লেবাননের মাজদাল আনজার এলাকায় ‘ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ’ (পিআইজে)-এর সদস্যদের লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়েছে। তবে এই দাবির সপক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দেখাতে পারেনি তেল আবিব।
উল্লেখ্য, পিআইজে ফিলিস্তিনের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী যা গাজায় হামাসের পাশাপাশি ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করছে এবং তারা লেবাননের হিজবুল্লাহর ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত।
২০২৪ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে লেবানন সরকারের অভিযোগ, ইসরায়েলি বাহিনী প্রায় প্রতিদিনই এই চুক্তি লঙ্ঘন করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ১০ হাজারের বেশি বিমান ও স্থল হামলা চালিয়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক দপ্তর গত নভেম্বরে জানিয়েছিল যে, যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১০৮ জন বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২১ জন নারী এবং ১৬ জন শিশু রয়েছে।
লেবানন গত মাসে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের শেষ তিন মাসেই ইসরায়েল অন্তত ২,০৩৬ বার লেবাননের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে।
বর্তমানে ইসরায়েলি বাহিনী লেবানন ভূখণ্ডের পাঁচটি এলাকা দখল করে রেখেছে। শুধু তাই নয়, যুদ্ধবিধ্বস্ত সীমান্তবর্তী গ্রামগুলো পুনর্গঠনে বাধা দেওয়া এবং হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষকে তাদের নিজ বাড়িতে ফিরতে না দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে। এই পরিস্থিতিতে লেবানন সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধে কার্যকর চাপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
-এম. এইচ. মামুন










