ছোট হচ্ছে তারেক রহমানের মন্ত্রিসভা, ডাক পাচ্ছেন কারা?

দীর্ঘ ২০ বছর পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফেরা বিএনপি এবার সরকার পরিচালনায় বড় ধরণের কাঠামোগত পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমানের প্রথম মন্ত্রিসভা হবে বর্তমানের তুলনায় অনেক ছোট এবং আধুনিক। ৪৩টি মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা কমিয়ে ৩০-এর নিচে নামিয়ে এনে প্রশাসনকে আরও গতিশীল করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ছোট মন্ত্রিসভা ও জবাবদিহিতার মডেল
বিবিসি বাংলার খবর অনুযায়ী, এবারের মন্ত্রিসভায় দুই ডজনের মতো পূর্ণমন্ত্রী এবং এক ডজনের মতো প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী থাকতে পারেন। গত দেড় দশকে যেসব মন্ত্রণালয় ভেঙে আলাদা করা হয়েছিল, সেগুলোকে পুনরায় একীভূত করে ব্যয় সংকোচন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই হবে এই ছোট মন্ত্রিসভার মূল লক্ষ্য।
সম্ভাব্যদের তালিকায় যার নাম
নতুন এই সরকারে অভিজ্ঞ প্রবীণদের পাশাপাশি মেধাবী তরুণদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। আলোচনায় থাকা কিছু নাম নিচে তুলে ধরা হলো:
ক্যাটাগরি
সম্ভাব্য নামসমূহ
অভিজ্ঞ ও নীতিনির্ধারক
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সালাহউদ্দিন আহমদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, মির্জা আব্বাস, ড. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞ
আবদুল আউয়াল মিন্টু, আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
নারী ও সংখ্যালঘু
সেলিমা রহমান, শামা ওবায়েদ (ফরিদপুর-২)।
তরুণ ও উদীয়মান
শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি (লক্ষ্মীপুর সদর), সুলতান সালাউদ্দিন টুকু (টাঙ্গাইল-৫), ইশরাক হোসেন (ঢাকা-৬)।
মিত্র দল (ধানের শীষ)
শাহাদাত হোসেন সেলিম (লক্ষ্মীপুর-১), ববি হাজ্জাজ (ঢাকা-১৩)।
মিত্র দল (নিজ প্রতীক)
আন্দালিভ রহমান পার্থ (বিজেপি), জোনায়েদ সাকি (গণসংহতি), নুরুল হক নুর (গণঅধিকার)।
জাতীয় সরকারের প্রতিশ্রুতি ও উপদেষ্টা পরিষদ
বিএনপি তাদের ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের প্রতিশ্রুতি রক্ষার অংশ হিসেবে মিত্র দলগুলোকেও মন্ত্রিসভায় শরিক করতে পারে। এছাড়া অভিজ্ঞ নেতাদের মধ্যে যারা মন্ত্রিসভায় থাকছেন না, তাদের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের নীতি-নির্ধারণী উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা করার বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত বলে জানা গেছে।
শপথের সূচি ও আন্তর্জাতিক অতিথি
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুই ধাপে এই উৎসব সম্পন্ন হবে,
সকাল ১০টা: সংসদ ভবনের শপথকক্ষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ।
বিকেল ৪টা: সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ।
এই অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। যদিও মোদীর সশরীরে উপস্থিত থাকা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে, তবে সার্কভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও রাষ্ট্রদূতদের উপস্থিতিতে এটি একটি বড় কূটনৈতিক মিলনমেলায় পরিণত হতে যাচ্ছে।
লামিয়া আক্তার