ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর গত তিন দিনে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) অন্তত ৩৫টি আসন থেকে অর্ধশতাধিক লিখিত ও ইমেইল অভিযোগ জমা পড়েছে। মূলত ভোট গণনা ও ফলাফল প্রকাশে অনিয়ম, কারচুপি এবং ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর অভিযোগ এনে পরাজিত প্রার্থীরা এসব আবেদন করেছেন।
তবে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশিত হয়ে যাওয়ার পর কমিশনের আর কিছু করার এখতিয়ার নেই। আইন অনুযায়ী সংক্ষুব্ধ প্রার্থীদের এখন নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে যেতে হবে।
ইসির বক্তব্য
নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, “আইন প্রার্থীদের সুযোগ দিয়েছে, তারা অভিযোগ নিয়ে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল বা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন। আদালতের নির্দেশ পেলেই কেবল ভোট পুনর্গণনার বিষয়ে ইসি সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।”
ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, নির্বাচনী বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আগেই নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে এবং সংক্ষুব্ধ প্রার্থীদের সেখানেই আপিল করতে হবে।
অভিযোগের ধরণ
অভিযোগকারী প্রার্থীদের মূল আপত্তি ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে নয়, বরং গণনা ও ফল প্রকাশ নিয়ে। তাদের অভিযোগ:
-
ভোট গণনার সময় এজেন্টদের বের করে দেওয়া বা ভয়ভীতি দেখানো।
-
ফলাফল শিটে ঘষামাজা, ওভাররাইটিং এবং পেন্সিল দিয়ে লিখে ফল পাল্টে দেওয়া।
-
ব্যালট পেপারে কৃত্রিম বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে ভোট বাতিল করা।
-
প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারদের পক্ষপাতমূলক আচরণ।
১১ দলীয় ঐক্য ও হেভিওয়েট প্রার্থীদের অভিযোগ
গতকাল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে ১১ দলীয় ঐক্যের একটি প্রতিনিধি দল লিখিত অভিযোগ জমা দেয়। জোটের নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ডা. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ দাবি করেন, কারচুপি ও ম্যানুপুলেশন করে অন্তত ৩২টি আসনে তাদের প্রার্থীদের অল্প ব্যবধানে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা এসব আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছেন এবং আইনি লড়াইয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
অভিযোগ তোলা ৩২টি আসনের মধ্যে রয়েছে—পঞ্চগড়-১, ঠাকুরগাঁও-২, দিনাজপুর-৩ ও ৫, লালমনিরহাট-১ ও ২, গাইবান্ধা-৪, বগুড়া-৩, সিরাজগঞ্জ-১, যশোর-৩, খুলনা-৩ ও ৫, বরগুনা-১ ও ২, ঝালকাঠি-১, পিরোজপুর-২, ময়মনসিংহ-১, ৪ ও ১০, কিশোরগঞ্জ-৩, ঢাকা-৭, ৮, ১০, ১৩ ও ১৭, গোপালগঞ্জ-২, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫, চাঁদপুর-৪, চট্টগ্রাম-১৪ এবং কক্সবাজার-৪।
এছাড়া ঢাকা-৮ আসনের এনসিপি প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ঢাকা-১৩ আসনের প্রার্থী মামুনুল হক এবং শেরপুর-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কাও পৃথকভাবে ইসিতে অনিয়মের অভিযোগ দায়ের করেছেন।










