বিষ্ণোই গ্যাংয়ের আতঙ্ক: তারকাদের ম্যানেজার ও ঘনিষ্ঠরা ঝুঁকিতে

বলিউড আবারও গ্যাংস্টার আতঙ্কে কেঁপে উঠেছে। সম্প্রতি রেন্স বিষ্ণোইয়ের গ্যাংকে কেন্দ্র করে মুম্বাইয়ের তারকাপাড়ায় ভীতির ছায়া নেমে এসেছে। নব্বইয়ের দশকের দাউত ইব্রাহিমের দৌরাত্ম্যের স্মৃতি যেন পুনরায় জীবন্ত হয়ে উঠছে।

শুক্রবারের হুমকি ও হামলার পর মুম্বাই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ পরিচালক রোহিত শেঠি ও অভিনেতা রণবীর সিংয়ের ম্যানেজারের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। একটি অডিও বার্তায় বলা হয়েছিল, দাবিদাওয়া পূরণ না হলে তারকাদের ম্যানেজার বা ঘনিষ্ঠ কর্মীদের হত্যা করা হবে। এই হুমকির ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত জোরদার করেছে।

রোহিত শেঠির বাড়িতে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার চারজন স্বপ্নিল সাকাত, আদিত্য গায়কি, সিদ্ধার্থ ইয়েপুর ও সমর্থ পোমাজিকে নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে অপরাধের দৃশ্য পুনর্নির্মাণ করা হয়। তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্তরা পুনে থেকে স্কুটার কিনে মুম্বাই আসে, ভিলে পার্লে স্টেশনের বাইরে পার্ক করে রোহিতের বাসভবনের সামনে গুলি চালায়। পুরো প্রক্রিয়াটি আদালতে উপস্থাপনের জন্য ভিডিও রেকর্ড করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ‘হ্যারি বক্সার’ নাম ব্যবহার করে একটি অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে দেওয়া হয়। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে বলা হয়, সময়মতো শর্ত না মানলে তারকা নয়, তাদের ঘনিষ্ঠদের লক্ষ্য করা হবে। তদন্তে উঠে এসেছে, ‘হ্যারি বক্সার’এর আসল নাম হরি চাঁদ। তিনি বিদেশে অবস্থান করে ভিপিএন ব্যবহার করে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের হয়ে হুমকি ছড়াচ্ছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

গত কয়েক দিনে মুম্বাইয়ে একাধিক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। রোহিত শেঠির বাড়ির বারান্দায় পাঁচ রাউন্ড গুলি চালানো হয়, যার দায় স্বীকার করেছে বিষ্ণোই গ্যাং। একই সঙ্গে রণবীর সিংয়ের কাছে ১০ কোটি রুপি চাঁদা দাবি করা হয়। এর আগে সালমান খান ও কাপিল শার্মাও গ্যাংয়ের টার্গেটে ছিলেন।

ক্রমাগত হুমকি ও হামলার ঘটনায় বলিউডের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রযোজনা সংস্থা ও তারকাদের বাসভবনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, সংগঠিত অপরাধচক্রের এই তৎপরতা রুখতে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, গ্ল্যামার আর আলোয় মোড়া বলিউডের আড়ালে এখন আতঙ্কের স্রোত বইছে। পরিস্থিতি কতদূর গড়ায় এবং তদন্তে শেষ পর্যন্ত কী উঠে আসে, সেটাই এখন সবার নজরের কেন্দ্রবিন্দু।

-বিথী রানী মণ্ডল