পবিত্র রমজান মাসজুড়ে দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আজ (১৫ ফেব্রুয়ারি) রোববার বিচারপতি ফাহমিদা ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন।
আসন্ন রমজান মাসকে কেন্দ্র করে আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পুরো রোজার মাসে সারাদেশের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণীর সব স্কুলের পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সচিবকে এই নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে এ বিষয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।
একইসঙ্গে মাদ্রাসা ও নিম্ন মাধ্যমিক স্কুল বন্ধ রাখার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত পৃথক প্রজ্ঞাপনের বৈধতা প্রশ্নে রুল জারি করেছেন আদালত।
এ সংক্রান্ত রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসান-এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ইলিয়াস আলী মণ্ডল। তার সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট তানজিনা ববি লিজা। তাদের সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট মো. বায়েজিদ।
নোটিশে বলা হয়, বাংলাদেশের অধিকাংশ নাগরিক মুসলমান। বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকে রমজান মাসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে—এটিই আইন, প্রথা ও নীতি এবং ওইভাবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রমজান মাসে বন্ধ থাকে। সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আইন ছাড়া কিছুই করা যাবে না; অনুচ্ছেদ ১৫২(১) অনুযায়ী আইন অর্থ বাংলাদেশে আইনের ক্ষমতা সম্পন্ন যেকোনও প্রথা ও রীতি। তাই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় রমজান মাসে খোলা রাখার সরকারের তর্কিত সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক।
নোটিশে আরও বলা হয়, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের কোমলমতি শিশু-কিশোররা সারাদিন স্কুলে যাতায়াত করে, ক্লাস করে ক্লান্ত হয়ে রোজা রাখতে কষ্টের সম্মুখীন হয়ে রোজা রাখার অভ্যাস থেকে দূরে থাকার আশঙ্কা দেখা দেয়। যা ধর্মীয় আচার চর্চার অন্তরায়। এ ছাড়া রমজান মাসে স্কুল চালু রাখলে শহরগুলোতে তীব্র যানযটের সৃষ্টি হয়, যাতে নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয়—যা কারও কাম্য নয়। তাই রমজান মাসে স্কুল বন্ধ রাখার অনুরোধ করা হয়।
তবে সেই নোটিশের জবাব না পেয়ে গত ২০ জানুয়ারি হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়।
-মামুন










