ডায়াবেটিস বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সাধারণ দীর্ঘমেয়াদি রোগ। অনিয়ন্ত্রিত রক্তে শর্করার মাত্রা হৃদরোগ, কিডনি জটিলতা, স্নায়ু ক্ষতি ও চোখের সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। তাই খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনে সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। প্রাকৃতিক উপায়ে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হিসেবে শজনে পাতা (মরিঙ্গা) অনেকের কাছেই পরিচিত। যা পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি ভেষজ উদ্ভিদ।
শজনে পাতায় রয়েছে ভিটামিন এ, সি ও ই, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রন এবং বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। বিশেষ করে এতে থাকা আইসোথায়োসায়ানেট ও পলিফেনল জাতীয় উপাদান রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমাতে সহায়ক বলে বিভিন্ন গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এসব উপাদান শরীরে ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে, ফলে কোষ সহজে গ্লুকোজ গ্রহণ করতে পারে এবং রক্তে শর্করার পরিমাণ তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকে।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে শজনে পাতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর উচ্চমাত্রার ফাইবার। ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার হজম প্রক্রিয়া ধীর করে, ফলে খাবারের পর হঠাৎ রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা কমে। নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে শজনে পাতা খেলে পোস্ট-প্র্যান্ডিয়াল (খাবারের পর) সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা পেতে পারেন অনেকেই।
শজনে পাতা খাওয়ার বিভিন্ন উপায় রয়েছে। তরকারি বা ডাল রান্নায় কুচি করে ব্যবহার করা যায়। কেউ কেউ শুকিয়ে গুঁড়া করে গরম পানি বা স্মুদি’র সঙ্গে মিশিয়ে খান। আবার শজনে পাতার চা-ও জনপ্রিয়। তবে যেভাবেই গ্রহণ করা হোক, তা যেন পরিমিত ও নিয়মিত হয় এটাই গুরুত্বপূর্ণ।
শজনে পাতা কোনোভাবেই ডায়াবেটিসের ওষুধের বিকল্প নয়। যারা ইতিমধ্যে ইনসুলিন বা অন্যান্য ওষুধ সেবন করছেন, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শজনে পাতা রক্তে শর্করা অতিরিক্ত কমিয়ে দিতে পারে। তাই খাদ্যতালিকায় এটি যুক্ত করার আগে অবশ্যই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে শুধু একটি নির্দিষ্ট খাদ্য নয়, বরং সমন্বিত জীবনযাপন গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ কমানো—এসব বিষয়ও সমানভাবে জরুরি। শজনে পাতা হতে পারে একটি সহায়ক উপাদান, তবে এটি সুস্থ জীবনযাপনের অংশ হিসেবেই গ্রহণ করা উচিত।
সবশেষে বলা যায়, পুষ্টিগুণে ভরপুর শজনে পাতা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। সঠিক পরিমাণ, নিয়মিত অভ্যাস এবং চিকিৎসকের পরামর্শ এই তিনের সমন্বয়েই ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনায় ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।
-বিথী রানী মণ্ডল










