রাঙামাটি-২৯৯ আসনে অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ানের ভূমিধ্বস জয়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ উপলক্ষে রাঙামাটি-২৯৯ আসনে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। চূড়ান্ত ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান বিপুল ভোটের ব্যবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে দিনব্যাপী সুশৃঙ্খল পরিবেশে ভোট গ্রহণ চলে। রাঙামাটি-২৯৯ আসনের আওতাধীন বাঘাইছড়ি উপজেলায় মোট ৩৯টি ভোটকেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকেই পৌরসভা, মারিশ্যা, বঙ্গলতলী ও সাজেকসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের কেন্দ্রে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য এবং নবীন ভোটারদের মধ্যেও ছিল ব্যাপক উৎসাহ।

দুর্গম পাহাড়ি ও প্রত্যন্ত এলাকার কেন্দ্রগুলোতেও নির্বিঘ্নে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। নির্বাচনী সরঞ্জাম ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আগাম প্রস্তুতির মাধ্যমে যথাসময়ে কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ায় নির্ধারিত সময়েই ভোটগ্রহণ শুরু করা সম্ভব হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন ছিল। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ টিম মাঠে সক্রিয় ছিল। ভোটগ্রহণ চলাকালে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

বাঘাইছড়ি উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৮০ হাজার ৫৯৬ জন। ভোটগ্রহণ শেষে কেন্দ্রেই ব্যালট গণনা করা হয়। বাঘাইছড়ি উপজেলার ৩৯টি কেন্দ্রের ফলাফল: অশোক তালুকদার (লাঙ্গল) পেয়েছেন ১৮৬ ভোট, জুই চাকমা (কোদাল) ১২৭ ভোট, অ্ডযাভোকেট দীপেন দেওয়ান (ধানের শীষ) ৩৪,৪০৯ ভোট, পহেল চাকমা (ফুটবল) ৬,৩৮৪ ভোট, মুহাম্মদ আবু বকর ছিদ্দিক (রিকশা) ১,৮০৪ ভোট, মোঃ আবুল বাশার (ট্রাক) ৩৭ ভোট এবং মোঃ জসিম উদ্দিন (হাতপাখা) ২০৭ ভোট।

তবে উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্যালয়ের তথ্যে অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ানের প্রাপ্ত ভোট ৩৪ হাজার ৯৯২ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাঙামাটি-২৯৯ আসনের ২১৩টি কেন্দ্রের চূড়ান্ত ফলাফল: ধানের শীষ প্রতীকে অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান পেয়েছেন ১,৯৯,৮৪০ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পহেল চাকমা (ফুটবল) পেয়েছেন ৩০,৯৯২ ভোট। এছাড়া মুহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক (রিকশা) পেয়েছেন ২১,৫১৩ ভোট, অশোক তালুকদার (লাঙ্গল) ২,৮৭৩ ভোট, মোঃ জসিম উদ্দীন (হাতপাখা) ৩,২৫৬ ভোট, মোঃ আবুল বাশার (ট্রাক) ৪৬৮ ভোট এবং জুঁই চাকমা (কোদাল) পেয়েছেন ১,০৩৮ ভোট।

চূড়ান্ত ফলাফলে অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পহেল চাকমার চেয়ে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৮৪৮ ভোট বেশি পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
মোট কাস্ট ভোট ছিল ২,২৬,৪০৫ এবং বাতিল ভোট ৪৮,৭০৭। একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৫৭,০১২ এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ১,৪০,৬২৯।

বিপুল ব্যবধানে জয় লাভ করায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এ ফলাফলকে ‘ভূমিধ্বস জয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ফলাফল ঘোষণার পর বিভিন্ন এলাকায় দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সার্বিকভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ ও গণনা সম্পন্ন হওয়ায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর প্রস্তুতি ও তৎপরতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

মোঃ ইমরান হোসেন, রাঙামাটি