জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়েছে বিপুল পরিমাণ গুজব ও অপতথ্য। সাধারণ ভোটার থেকে রাজনৈতিক কর্মী, সবার মধ্যেই ছিল উৎসবের আবহ, কিন্তু বাস্তবে রাতটি রূপ নিয়েছিল ভুয়া তথ্যের যুদ্ধে।
তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ডিসমিসল্যাব পর্যবেক্ষণ করেছে, ভোটের একদিন আগে থেকে বিভিন্ন আসনে পরিকল্পিতভাবে ভুয়া দাবি ছড়ানো শুরু হয়। ভোটকেন্দ্রে হামলা, প্রার্থীর গুলিবিদ্ধ হওয়ার বা প্রার্থিতা প্রত্যাহারের খবর সহ নানা মিথ্যা তথ্য প্রচার করা হয়।
উদাহরণ হিসেবে পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি সমর্থিত নুরুল হক নুরের গুলিবিদ্ধ হওয়ার দাবি ভাইরাল হয়, পরে যাচাইতে তা ভুয়া বলে নিশ্চিত হয়। চট্টগ্রাম-৮ আসনে জুবাইরুল হাসান আরিফ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন, এমন দাবিও ভুয়া ফেসবুক পেজ থেকে ছড়ানো হয়।
ধানের শীষ ও হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থীদের সঙ্গে সম্পর্কিত গুজবও ছড়ানো হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ-২, নোয়াখালী-১ ও নোয়াখালী-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বা বিএনপি প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার মিথ্যা ভিডিও ও পোস্ট ভাইরাল হয়। পরে প্রার্থীরা লাইভ বা পোস্টের মাধ্যমে গুজব উড়িয়ে দেন।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারকে নিয়ে ছড়ানো তথ্যও পুরনো ভিডিও ব্যবহার করে গুজব তৈরি করা হয়েছিল। একইভাবে বরগুনা-২ আসনের প্রার্থীর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের খবরও ভুয়া ছিল।
কিছু ক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্র দখল, হামলা ও সেনা বিদ্রোহের মতো ভিত্তিহীন দাবি ছড়ানো হয়েছে। ডিসমিসল্যাব জানিয়েছে, এই ভুয়া তথ্য ছড়ানো হয়েছিল ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে এবং নির্বাচনের পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়, প্রায় সব রাজনৈতিক পক্ষের কোনো না কোনোভাবে এ গুজবযুদ্ধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
সাবরিনা রিমি/










