দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। রাজনীতির মাঠের পাশাপাশি সরগরম শোবিজ অঙ্গনও। পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরে উচ্ছ্বসিত তারকারা। কেউ কেউ প্রথমবার ভোট দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নিজের অনুভূতির কথা প্রকাশ করছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) তরুণ নির্মাতা জাহিদ প্রীতম এক পোস্টে লিখেছেন, ‘জীবনে প্রথম ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা অদ্ভুত সুন্দর। ভোট কেন্দ্রে গিয়ে দেখি আমার স্কুলের শাহনাজ ম্যাম, দেলোয়ার স্যার আর বাবার বন্ধু ইয়াকুব চাচা। আমি মাস্ক পরে যখন নাম বললাম, শাহনাজ ম্যাম আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন, কেন প্রীতম? জামাল সাহেবের ছেলে? আমি মাস্ক খুলে মুচকি হাসলাম। সন্দেহ হলো, ২৩ বছর আগের প্রীতমকে চিনতে পারবেন তো। পাশ থেকে দেলোয়ার স্যার লাফিয়ে উঠলেন। আরে প্রীতম, কেমন আছিস বাপ ইয়াকুব চাচা উঠে আসলেন। অদ্ভুত এক দৃশ্য। আমি সবাইকে সালাম দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম তারা সবাই কেমন আছেন?’
কথার সূত্র ধরে তিনি যোগ করেন, “বাইরে থাকা আনসার সদস্যরা বিচলিত হয়ে গেলেন তাদের এমন খাতির দেখে। ম্যাডাম আমার হাতে কালি মাখতে মাখতে বললেন, ‘তোমার সমস্ত কাজ আমি আর আমার মেয়ে দেখি… খুব সুন্দর বানাও তুমি।’ দেলোয়ার স্যার বললেন, ‘লেখালেখিও করে পুরো জুলাই তো ওরাই আগুন জ্বালালো। আমি হতবিহ্বল হয়ে কী করব বুঝতে পারছি না! কারণ উনারা যেসকল দলের প্রতিনিধিত্ব করছেন ৩ বেলা নিয়ম করে আমি তাদের সমালোচনা করি। চলে আসার সময় দেলোয়ার স্যার বললেন, লেখাটা চালিয়ে যাইও! তোমরা লেখ বলেই আমরা সাহস পাই।’
জাহিদ প্রীতিম আরও লিখেছেন, ‘আমি স্যারকে জড়িয়ে দোয়া চেয়ে আসলাম। বললাম ভুল কিছু বললে যেন শুধরে দেন! স্যার আমার নাম্বার রেখে দিলেন! আমি অনুভব করলাম স্যারের ত্বকের চামড়া বটে গেছে, মলিন, বুড়ো মুখ! অথচ এক সময়ের বাঘা স্যার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ইয়াকুব চাচা ছলছল চোখে আমাকে দেখেই গেলেন! নির্বাক, অথচ কতটা আনন্দ চোখে মুখে।’
সবশেষে তিনি লিখেছেন, ‘খুব ভালো লাগা নিয়ে ফিরলাম বাসায়! দিনটা মনে থাকবে আজীবন। সবাই দলে দলে যান ভোট দিতে! অদ্ভুত এক উৎসব! মিস কইরেন না।‘
-মাহমুদ সালেহীন খান










