প্রধান উপদেষ্টাসহ সব উপদেষ্টাদের সম্পদের হিসাব প্রকাশ

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি এবং রাষ্ট্রীয় স্বচ্ছতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, অন্যান্য উপদেষ্টা এবং তাদের স্বামী-স্ত্রীর সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই তথ্য জনসমক্ষে আনা হয়।
প্রজ্ঞাপনে প্রধান উপদেষ্টাসহ মোট ২৭ জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির ২০২৪ সালের ৩০ জুন এবং ২০২৫ সালের ৩০ জুন তারিখের সম্পদের খতিয়ান তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার অংশ হিসেবেই এই হিসাব প্রকাশ করা হলো।
কার সম্পদ কত: প্রধান উপদেষ্টাসহ শীর্ষ পাঁচ
প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, অনেক উপদেষ্টার সম্পদ সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ও উত্তরাধিকার সূত্রে বাড়লেও কারো কারো সম্পদ পারিবারিক ব্যয় ও দানের কারণে কমেছে।
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস (প্রধান উপদেষ্টা): ৩০ জুন ২০২৫ তারিখ পর্যন্ত তার মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫ কোটি ৬২ লাখ ৪৪ হাজার ০৬৫ টাকা। গত এক বছরে তার সম্পদ বেড়েছে প্রায় ১ কোটি ৬১ লাখ টাকা। সঞ্চয়পত্র নগদায়ন, আমানতে বৃদ্ধি এবং উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত শেয়ারের কারণে এই পরিবর্তন এসেছে বলে জানানো হয়েছে। তবে তার স্ত্রী ড. আফরোজী ইউনূসের সম্পদ ২.১১ কোটি থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১.২৭ কোটি টাকায়।
শেখ বশিরউদ্দীন (বাণিজ্য উপদেষ্টা): ৯১ কোটি টাকার বেশি সম্পদ নিয়ে তিনি তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করছেন।
ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ (অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা): তার সম্পদের পরিমাণ ১৫.০৯ কোটি টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৬ কোটি ২২ লাখ ৯৫ হাজার ৪৮৩ টাকা।
শারমীন এস মুরশিদ (সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা): তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি ৯৩ লাখ ৬৪ হাজার ৭১৯ টাকা।
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ (অর্থ উপদেষ্টা): তার সম্পদ সামান্য বেড়ে হয়েছে ৭ কোটি ১৬ লাখ ১৫ হাজার ০২৬ টাকা।
সর্বনিম্ন ও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন
তালিকার সবচেয়ে নিচে অবস্থান করছেন সাবেক উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম, যার মোট সম্পদের পরিমাণ মাত্র ১২ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। অন্যদিকে, উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সম্পদ দান ও পারিবারিক ব্যয়ের কারণে ২.২৫ কোটি টাকা থেকে কমে ১.১২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। উত্তরাধিকার সূত্রে বড় অংকের সম্পত্তি পাওয়ায় আদিলুর রহমান খানের সম্পদ ৯৮ লাখ টাকা থেকে লাফিয়ে ২ কোটি ৫২ লাখ টাকায় পৌঁছেছে।
ড. ইউনূসের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন
দায়িত্ব গ্রহণের দুই সপ্তাহের মাথায় প্রধান উপদেষ্টা বলেছিলেন, “আমাদের সব উপদেষ্টা দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের সম্পদের বিবরণ প্রকাশ করবেন। পর্যায়ক্রমে এটি সব সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও নিয়মিত ও বাধ্যতামূলক করা হবে।” নির্বাচনের মাত্র এক দিন আগে এই হিসাব প্রকাশকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে একটি ‘নৈতিক বার্তা’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

উপদেষ্টাদের সম্পদের বিবরণী দেখতে এখানে ক্লিক করুন

-লামিয়া আক্তার