নির্বাচনে অন্তর্ভুক্তি জোর করে করানো যায় না

সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ঢাকায় আসা কমনওয়েলথ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

গতকাল মঙ্গলবার প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বৈঠক শেষে তিনি নির্বাচন, রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ও নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।

বৈঠকে কমনওয়েলথ প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়, নির্বাচন আরও ইনক্লুসিভ করা যেত কিনা, অর্থাৎ এখানে অন্য কোনো রাজনৈতিক দলকে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব ছিল কিনা। জবাবে আসিফ নজরুল বলেন, ‘আপনি জোর করে তো অন্তর্ভুক্ত করাতে পারেন না। অন্তর্ভুক্তি করার মতো কোনো মাইন্ডসেট, ইঙ্গিত বা প্রস্তুতি আমরা তাদের (আওয়ামী লীগ) দলের কারও মধ্যে দেখিনি।

উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘জুলাই হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট তাদের (আওয়ামী লীগ) সিনিয়র নেতাদের বিচার চলছে। তাদের প্রধান নেত্রীর মৃত্যুদণ্ডের আদেশ হয়েছে এবং তিনি বিদেশে বসে সরকার ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের হত্যার নির্দেশ দিচ্ছেন। এমনকি বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার মতো উস্কানিমূলক বক্তব্যও দেওয়া হচ্ছে। অথচ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় তাদের দল ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে একজন নেতাকেও অনুশোচনামূলক বা নিন্দাসূচক বক্তব্য দিতে দেখা যায়নি। আপনি যখন রিকনসিলিয়েশন বা অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু করবেন, তখন অন্য পক্ষের অ্যাটিচিউড বিবেচনায় নিতে হবে। আমাদের কাছে কখনোই মনে হয়নি, তারা রাষ্ট্র সংস্কার, নতুন রাষ্ট্র গঠন বা প্রকৃত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার যে প্রক্রিয়া চলছে, তাতে অন্তর্ভুক্ত হতে চায়। বরং তারা বাংলাদেশে যে ফ্যাসিস্ট রেজিম কায়েম করেছিল, সেটার ধারাবাহিকতাই বজায় রাখতে চায়।’

নারী ভোটারদের নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি কমনওয়েলথ প্রতিনিধিদের বলেন, বাংলাদেশে নারী ভোটারদের ভয় পাওয়ার মতো কোনো বিশেষ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। ক্ষুদ্র ও বিচ্ছিন্ন ঘটনা সব সময়ই ঘটে। তবে এর কারণে নারী ভোটারের সংখ্যা কমবে বলে তিনি মনে করেন না।

-সাইমুন