কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আলভারো কারেরাসের গোলে ভর করে ভ্যালেন্সিয়াকে ২–০ ব্যবধানে হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। এই জয়ে লা লিগার শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে ব্যবধান কমিয়ে এক পয়েন্টে নামিয়ে এনেছে লস ব্লাঙ্কোসরা। রোববার ভ্যালেন্সিয়ায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে রিয়াল পুরো ম্যাচজুড়েই বলের দখল ধরে রাখে, তবে পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে বেশ বেগ পেতে হয়। প্রথমার্ধে ভ্যালেন্সিয়ার গোলরক্ষক স্টোল দিমিত্রিয়েভস্কিকে তেমন কোনো কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি সফরকারীরা।
ম্যাচের ৬৫তম মিনিটে সমতা ভাঙেন ডিফেন্ডার আলভারো কারেরাস। বক্সে ঢুকে প্রথমে বল হারালেও প্রতিপক্ষের ক্লিয়ারেন্স তার শরীরে লেগে ফিরে আসে। দ্রুত প্রতিক্রিয়ায় নিচু শটে বল জালে পাঠান ২২ বছর বয়সী এই ফুলব্যাক। যোগ করা সময়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। বদলি খেলোয়াড় ব্রাহিম দিয়াজ বাঁ দিক দিয়ে পাল্টা আক্রমণ গড়ে তুলে নিচু ক্রস বাড়ান, যা কাছ থেকে এক স্পর্শে জালে পাঠান ফরাসি তারকা। এটি ছিল এমবাপ্পের চলতি লিগে ২৩তম গোল। গোলদাতার তালিকায় তিনি এখন দ্বিতীয় স্থানের খেলোয়াড়ের চেয়ে আট গোল এগিয়ে।
এই জয়ের পর লা লিগা পয়েন্ট তালিকায় বার্সেলোনা ৫৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে, এক পয়েন্ট কম নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রিয়াল মাদ্রিদ। ভ্যালেন্সিয়া ১৭তম স্থানে, অবনমন অঞ্চলের ঠিক এক পয়েন্ট ওপরে। ম্যাচে এমবাপ্পে বাঁ প্রান্ত ধরে একাধিক দৌড় দিলেও স্পষ্ট সুযোগ খুব একটা তৈরি হয়নি। নিষেধাজ্ঞার কারণে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবং চোটের জন্য জুড বেলিংহ্যাম, রদ্রিগো ও এদের মিলিতাওকে না পেয়ে রিয়াল কোচ আলভারো আরবেলোয়াকে দল সাজাতে বেশ রদবদল করতে হয়। এই সুযোগে একাদশে জায়গা পান একাডেমির খেলোয়াড় রাউল আসেনসিও, দাভিদ হিমেনেস ও গনসালো গার্সিয়া। তুলনামূলক নিষ্প্রভ রিয়াল আক্রমণে একমাত্র উজ্জ্বল মুখ ছিলেন এমবাপ্পে।
ম্যাচ শেষে আরবেলোয়া বলেন, “ভ্যালেন্সিয়ায় খেলা মানে দাঁতের ডাক্তারের কাছে যাওয়ার মতো—সব সময় কঠিন। আমরা জানতাম ম্যাচটা সহজ হবে না। এটি ছিল খুবই দায়িত্বশীল ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ পারফরম্যান্স। আমি সন্তুষ্ট।” তিনি আরও যোগ করেন, “নান্দনিকতার দিক থেকে উন্নতির সুযোগ আছে। কিন্তু একটি দল গড়ে ওঠে দৃঢ়তা ও আত্মত্যাগের ওপর। আজ কোর্তোয়া একটি সেভও করতে হয়নি—এটাই প্রমাণ করে আমরা কতটা সংগঠিত ছিলাম।”
অন্যান্য ম্যাচ
এদিন শিরোপা দৌড়ে আরও পিছিয়ে পড়েছে আতলেতিকো মাদ্রিদ। ঘরের মাঠে রিয়াল বেতিসের কাছে তারা ১–০ গোলে হেরে যায়। ম্যাচের ২৮তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত শটে জয়সূচক গোলটি করেন অ্যান্টনি। এই হারের পর আতলেতিকো ৪৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয় স্থানে রয়েছে। তাদের তিন পয়েন্ট পেছনে চতুর্থ স্থানে ভিয়ারিয়াল, যাদের হাতে এখনও দুটি ম্যাচ বাকি। বেতিস ৩৮ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচ নম্বরে অবস্থান করছে।
-বেলাল হোসেন










