বাংলাদেশ এবং যুক্তরাজ্যের মধ্যে সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) জরিপ জাহাজ ‘এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ’ ক্রয়চুক্তি হয়েছে। গতকাল রোববার নৌবাহিনী সদরদপ্তরে এ চুক্তি সই হয় বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
আইএসপিআর জানায়, বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন সহকারী নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. শফিকুর রহমান এবং যুক্তরাজ্যের পক্ষে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্যিক কর্মকর্তা ন্যানিসে কালোবুলাওয়াসাইকাবারা।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার, সামরিক উপদেষ্টা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিবসহ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ এবং নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ব্রিটিশ হাইকমিশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ জাহাজটি এখন বাংলাদেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রচেষ্টাকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।
ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বলেন, এই জরিপ জাহাজের বিক্রয় যুক্তরাজ্য এবং বাংলাদেশের মধ্যে গভীর আস্থা এবং দৃঢ় সহযোগিতার প্রতিফলন। এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ রাজকীয় নৌবাহিনীকে সম্মানের সঙ্গে সেবা দিয়েছে। আমরা গর্বিত, এর মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরের প্রতি আমাদের যৌথ প্রতিশ্রুতির নতুন সূচনা হয়েছে। এইচএমএস এন্টারপ্রাইজের বিক্রয় বঙ্গোপসাগরে অবদান রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের অব্যাহত অংশীদারিত্বের প্রতিফলন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৫ সাল থেকে উভয় দেশের ধারাবাহিক ও ফলপ্রসূ উদ্যোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ চুক্তি সই সম্ভব হয়েছে। চুক্তিটি দুদেশের পারস্পরিক বিশ্বাস এবং সহযোগিতার বহিঃপ্রকাশ। এটা বাংলাদেশ সরকারের দূরদর্শী, বাস্তবমুখী ও সক্রিয় কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে অর্জিত হয়েছে। এ চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন কার্যক্রম গতিশীল হবে এবং দুদেশের মধ্যে সামরিক সরঞ্জাম বিনিময়ের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে।
আইএসপিআর জানায়, বাংলাদেশের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সমুদ্র গবেষণা কার্যক্রমে এ চুক্তি সহায়ক হিসেবে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে এটি উভয় দেশের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্ব ও সামরিক সহযোগিতা দৃঢ় করতে অবদান রাখবে।
‘এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ’ যুক্তরাজ্যের রাজকীয় নৌবাহিনীর একটি আধুনিক হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ জাহাজ। জাহাজটিতে মাল্টিবিম ইকো সাউন্ডার, সাইড স্ক্যান সোনার ও সাব-বটম প্রোফাইলারসহ উন্নত হাইড্রোগ্রাফিক ও ওশানোগ্রাফিক যন্ত্রপাতি সংযোজিত রয়েছে।
গভীর সমুদ্র জরিপ, সি-বেড ম্যাপিং, ফিজিক্যাল ওশানোগ্রাফিক তথ্য সংগ্রহ ও নেভিগেশনাল চার্ট প্রণয়নে এটি কার্যকর। জাহাজটিতে হেলিকপ্টার ল্যান্ডিং ডেক ও আধুনিক যোগাযোগ সুবিধা রয়েছে।
নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিতকরণে ইন্টারন্যাশনাল হাইড্রোগ্রাফিক অর্গানাইজেশন (আইএইচও) প্রণীত নতুন জরিপ মানদণ্ড বাস্তবায়ন এবং সুনীল অর্থনীতির বিকাশে জাহাজটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
জাহাজটি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে সংযোজনের মাধ্যমে হাইড্রোগ্রাফিক সক্ষমতা বহুলাংশে বাড়বে এবং বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিওআরআই) ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের সামুদ্রিক গবেষণা কার্যক্রমে সহায়ক হবে।
আইএসপিআর আরও জানায়, গভীর সমুদ্রে মোতায়েনের মাধ্যমে অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও জলদস্যুতা প্রতিরোধ, সমুদ্রে উদ্ধার তৎপরতা এবং মৎস্য ও তেল-গ্যাস ব্লকে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা সম্ভব।
-সাইমুন










